ডেইলি নারায়ণগঞ্জ টুয়েন্টিফোর ডটকমঃ নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনকে সামনে রেখে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। নির্বাচন ঘিরে দলটির একাধিক সম্ভাব্য প্রার্থীর নাম আলোচনায় আসায় রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে নানা হিসাব-নিকাশ।
দলীয় নেতাকর্মী ও রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নগর প্রশাসনিক এলাকা। শিল্পনগরী হিসেবে পরিচিত এই শহরের রাজনৈতিক গুরুত্বও অনেক বেশি। ফলে মেয়র পদে প্রার্থী মনোনয়নের ক্ষেত্রে বিএনপিকে অত্যন্ত সতর্ক ও কৌশলী হতে হবে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এডভোকেট শাখাওয়াত হোসেন খান সঠিকভাবে সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করতে পারলে তাকেই দলীয় প্রার্থী হিসেবে বিবেচনা করা হতে পারে বলে আলোচনা রয়েছে। তবে রাজনীতিতে শেষ মুহূর্তে সমীকরণ বদলে যাওয়ার নজির নতুন নয়। তাই এখনই নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না।
এদিকে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে ইতোমধ্যে যাদের নাম রাজনৈতিক মহলে আলোচিত হচ্ছে তারা হলেন— মহানগর বিএনপি নেতা মাসুদুজ্জামান মাসুদ, মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল আল ইউসুফ খান টিপু, জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও মহানগর বিএনপি নেতা জাকির খান এবং জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মাসিকুল ইসলাম রাজীব, নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম আজদের ছোট ভাই ব্যবসায়ী রাকিবুল ইসলাম রাকিব ।
ইতোমধ্যে সম্ভাব্য কয়েকজন প্রার্থী নিজ নিজ অবস্থান থেকে মাঠে সক্রিয় রয়েছেন। কেউ সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার করছেন, কেউ গণসংযোগ বাড়াচ্ছেন, আবার কেউ সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মসূচির মাধ্যমে নিজেদের উপস্থিতি জানান দিচ্ছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হবে নগরীর দীর্ঘদিনের সমস্যা সমাধান করা। বিশেষ করে হকার সমস্যা, তীব্র যানজট, ড্রেনেজ সংকট, জলাবদ্ধতা, সড়ক ব্যবস্থাপনা এবং নাগরিক সেবার মানোন্নয়ন অন্যতম প্রধান ইস্যু হয়ে উঠবে।
নগরবাসীর প্রত্যাশা, যে প্রার্থীই নির্বাচিত হোন না কেন, তিনি যেন রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতির বাইরে গিয়ে বাস্তব উন্নয়ন, সুশাসন ও আধুনিক নগর ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করেন।
বিশ্লেষকদের ধারণা, নির্বাচনের সময় যত ঘনিয়ে আসবে ততই নতুন নতুন নাম সামনে আসবে এবং সম্ভাব্য প্রার্থীর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। ফলে শেষ পর্যন্ত বিএনপি কাকে মনোনয়ন দেয়, সেটিই এখন নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।
গত ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হলে ১৯ আগস্ট দেশের ১২টি সিটি করপোরেশনের মেয়রদের অপসারণ করে প্রশাসক বসানো হয়। সেই ধারাবাহিকতায় নাসিকের সাবেক মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীকে অপসারণ করে প্রথমে এএইচএম কামরুজ্জামান ও পরে আবু নছর মোহাম্মদ আব্দুল্লাহকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। গত ২৩ ফেব্রুয়ারি প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয় নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এড.সাখাওয়াত হোসেন খান।

