পর্তুগাল জাতীয় দলের ক্যাম্প ছেড়ে চলে গেছেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। নিজেই জানিয়েছেন সেই কথা। তবে কেন চলে গেছেন, সেটি ‘সময়মতো’ সবাইকে জানাবেন বলে জানিয়েছেন তিনি।
প্রধান কোচ হোর্হে জেসুসের বক্তব্যের পরই এমন সিদ্ধান্ত নিলেন রোনালদো। এর আগে, অধিনায়ক অনুশীলন করতে অস্বীকৃতি জানালেও তার সঙ্গে কোনো দ্বন্দ্ব নেই বলে জানান জেসুস।
বিশ্বকাপের পর অবসরের সিদ্ধান্ত নিলেও ক্যারিয়ারের ১ হাজার গোলের মাইলফলক স্পর্শ করার লক্ষ্যে খেলা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। চলমান আন্তর্জাতিক বিরতিতে জেসুসের ২৫ সদস্যের দলে ছিলেন রোনালদো। ওয়েলসের বিপক্ষে নেশনস লিগের প্রথম ম্যাচেও শুরু থেকে খেলেছিলেন তিনি।
তবে রোববার অসলোতে নরওয়ের বিপক্ষে পর্তুগালের ২-১ গোলের জয়ে খেলেননি আল-নাসর ফরোয়ার্ড। ম্যাচ শেষে সতীর্থরা যখন সমর্থকদের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন, তখনও তাদের সঙ্গে যোগ দেননি তিনি।
রিয়াল মাদ্রিদ ও ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সাবেক এই ফরোয়ার্ড ম্যাচ শেষে ড্রেসিংরুমে চলে যান। এরপরই খবর ছড়ায়- কোচের সঙ্গে রোনালদোর দ্বন্দ্ব চলছে।
বৃহস্পতিবার ডেনমার্কের বিপক্ষে পর্তুগালের নেশনস লিগ ম্যাচের আগে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন জেসুস। সেখানে তিনি বলেন, ‘কোনো ঘটনাই ঘটেনি। যেকোনো খেলোয়াড়, আমি নিজেও খেলোয়াড় ছিলাম। ২০ বা ৩০ মিনিট ওয়ার্মআপ করার পর যখন মাঠে নামার সুযোগ পায় না, তখন কেউই খুশি থাকে না।’
ম্যাচ শুরুর আগে জেসুস জানিয়েছিলেন, রোনালদো শুরুর একাদশে থাকবেন না। তবে ম্যাচের পরের অংশে নামতে পারেন। তিনি বলেন, ‘এরপর কোচ হিসেবে আমি তাকে মাঠে না নামানোর সিদ্ধান্ত নিই। এটা নিয়ে এত কিছু করার কিছু নেই।’
রোনালদো অনুশীলন করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন, এমন দাবি জেসুস নাকচ করলেও ক্যাম্প ছেড়ে চলে গেছেন রোনালদো। ডেনমার্কের বিপক্ষে ম্যাচের আগে দলের অনুশীলনে ছিলেন না তিনি।
এরপর ইনস্টাগ্রামে জাতীয় দলের ক্যাম্প ছাড়ার ঘোষণা দেন রোনালদো।
তিনি লেখেন, ‘জাতীয় দলের সংবাদ সম্মেলনের পর এবং পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতির সঙ্গে আলোচনার পর আমি জাতীয় দলের অনুশীলন ক্যাম্প ছেড়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। সময়মতো আমি সব পর্তুগিজকে জানাবো, ক্যাম্প ছাড়ার পেছনে আমাকে কী কারণে এই সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে।’
সতীর্থদের আসন্ন ম্যাচগুলোর জন্য শুভকামনাও জানিয়েছেন রোনালদো।

