চাকরিপ্রার্থী ও নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ তৈরি করে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় প্রথমবারের মতো চাকরি মেলার আয়োজন করেছে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক)।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) ফতুল্লার বিসিক শিল্পাঞ্চলে আয়োজিত ‘চাকরি মেলা ২০২৬’-এর উদ্বোধনকালে এসব কথা বলেন বিসিকের চেয়ারম্যান বেনজীর আহমেদ টিটু।
বিসিক চেয়ারম্যান বলেন, সামনে এগিয়ে যাওয়াই তাদের মূল লক্ষ্য। সরকারের উন্নয়ন ও কর্মপরিকল্পনার সঙ্গে তাল মিলিয়ে বিসিক যেন তার দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে পারে, সে জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়া। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দীর্ঘদিন মানুষের অধিকারের জন্য সংগ্রাম করেছেন। মানুষ তাকে ভোট দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বানিয়েছে। আমরা বিসিকের পক্ষ থেকে তার কর্মের গতির সঙ্গে কতটা তাল মেলাতে পারব, সেটা নিয়ে ভয়ে থাকি। বিসিক যেন তার দায়িত্ব সম্পূর্ণভাবে পালন করতে পারে, আমরা সেই চেষ্টা করছি।’
চাকরি মেলার আয়োজনকে বিসিকের নতুন উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করে বেনজীর আহমেদ টিটু বলেন, ‘বিসিক এর আগে এ ধরনের আয়োজন করেনি। এটি বিসিকের প্রথম আয়োজন। পড়াশোনা শেষে শিক্ষার্থীরা যখন চাকরি খোঁজেন, তখন একজন চাকরিপ্রার্থী ও একজন চাকরিদাতার মধ্যে একটি সেতুবন্ধন তৈরি করাই আমাদের লক্ষ্য।’
এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে সহযোগিতার জন্য বাংলাদেশ নিটওয়্যার প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিকেএমইএ)-এর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।
চাকরি মেলার কার্যক্রম সম্পর্কে তিনি বলেন, মেলায় চাকরিপ্রার্থীরা তাদের জীবনবৃত্তান্ত (সিভি) নিয়ে আসবেন। অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো প্রার্থীদের সিভি যাচাই করে তাৎক্ষণিক সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে নিয়োগের চেষ্টা করবে। গুরুত্বপূর্ণ বা বিশেষায়িত পদের ক্ষেত্রে সিভি সংগ্রহ করে পরবর্তী সময়ে আরও যাচাই-বাছাই শেষে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
বিসিক চেয়ারম্যান বলেন, ‘চাকরির বিষয়টি সহজ করার জন্যই বিসিক এই উদ্যোগ নিয়েছে। যারা চাকরি চান এবং যারা চাকরি দিতে চান—দুই পক্ষকে কাছাকাছি আনতেই এ আয়োজন।’
তিনি আরও বলেন, ‘সবাইকে চাকরি করলেই হবে না। কাউকে কাউকে কীভাবে চাকরি দেওয়া যায়, সেই ব্যবস্থাও নিতে হবে।’ এ ক্ষেত্রে তরুণদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে বিসিক প্রশিক্ষণ ও ক্ষুদ্র ঋণসহ বিভিন্ন সহায়তা দিয়ে থাকে বলে জানান তিনি।
বেনজীর আহমেদ টিটু বলেন, দেশের অনেক বড় বড় প্রতিষ্ঠান ও জায়ান্ট কোম্পানির যাত্রা একসময় বিসিকের মাধ্যমে শুরু হয়েছিল। তাই চাকরির পাশাপাশি উদ্যোক্তা তৈরির ক্ষেত্রেও বিসিকের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
আয়োজকদের মতে, চাকরি মেলার মাধ্যমে একদিকে যেমন শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো প্রয়োজনীয় জনবল খুঁজে নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছে, অন্যদিকে চাকরিপ্রার্থীরাও সরাসরি নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠানের কাছে নিজেদের যোগ্যতা তুলে ধরার সুযোগ পাচ্ছেন।

