নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে সাম্প্রতিক সময়ে আবারও প্রকাশ্য কর্মসূচি ও মাঠপর্যায়ের তৎপরতা বেড়েছে। বিশেষ করে বিএনপির জেলা, মহানগর ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের ধারাবাহিক মিছিল-বিক্ষোভের পাশাপাশি জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি এনসিপিরও বিভিন্ন কর্মসূচি ও সাংগঠনিক কার্যক্রম দৃশ্যমান হচ্ছে। ফলে স্থানীয় রাজনীতিতে দলগুলোর বর্তমান অবস্থান, মাঠের সক্রিয়তা এবং সাংগঠনিক প্রস্তুতি নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে।
গত কয়েক দিনে বিএনপির একাধিক কর্মসূচি হয়েছে নারায়ণগঞ্জে। ২৫ সেপ্টেম্বর সদর থানা বিএনপি নগরীতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করে। একই দিনে যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের যৌথ উদ্যোগে চাষাড়া থেকে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড হয়ে সাইনবোর্ডমুখী বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।
এসব কর্মসূচিতে নেতাকর্মীরা সন্ত্রাস, নৈরাজ্য ও দেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলে রাজপথে সক্রিয় থাকার কথা জানান। বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর যৌথ কর্মসূচিও দলটির মাঠপর্যায়ের সমন্বয়ের একটি দৃশ্যমান দিক হিসেবে সামনে এসেছে।
তবে বিএনপির রাজনীতিতে শুধু রাজপথের কর্মসূচিই নয়, সাংগঠনিক পুনর্বিন্যাস ও স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে ঘিরে প্রস্তুতির বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে নারায়ণগঞ্জে বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপি—তিন দলই নিজেদের অবস্থান নিয়ে ভাবছে বলে স্থানীয় রাজনৈতিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
অন্যদিকে নারায়ণগঞ্জে জামায়াতে ইসলামীর সাম্প্রতিক কর্মসূচিতে জনজীবনের বিভিন্ন ইস্যু গুরুত্ব পাচ্ছে। ২১ সেপ্টেম্বর জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদ এবং মূল্য পুনর্বিবেচনার দাবিতে নারায়ণগঞ্জ মহানগর জামায়াত স্মারকলিপি দেয়।
এর আগে ৫ সেপ্টেম্বর সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইলে ১১ দলীয় ঐক্যজোটের ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চের পথসভায় জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান বক্তব্য দেন। ওই কর্মসূচিতে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামসহ বিভিন্ন দলের নেতারাও বক্তব্য রাখেন।
ফলে নারায়ণগঞ্জে জামায়াতের কার্যক্রমকে শুধু দলীয় কর্মসূচির মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে বৃহত্তর রাজনৈতিক জোট ও বিভিন্ন জনসম্পৃক্ত ইস্যুর সঙ্গেও যুক্ত হতে দেখা যাচ্ছে।
এদিকে নতুন রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে এনসিপিও নারায়ণগঞ্জে সাংগঠনিক কার্যক্রম এগিয়ে নিচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে সোনারগাঁ উপজেলা এনসিপির নতুন আহ্বায়ক কমিটি গঠনের খবরও প্রকাশ্যে এসেছে।
৫ সেপ্টেম্বর নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে ১১ দলীয় ঐক্যজোটের লংমার্চের পথসভায় এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এবং নারায়ণগঞ্জ-সংক্রান্ত রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে দলটির স্থানীয় নেতাদের অংশগ্রহণও দেখা গেছে।
স্থানীয় রাজনীতিতে এনসিপির জন্য এখন বড় বিষয় হচ্ছে—নতুন সংগঠন হিসেবে তারা কতটা দ্রুত ওয়ার্ড, ইউনিয়ন ও উপজেলা পর্যায়ে সাংগঠনিক ভিত্তি তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে থাকায় দলটির সাংগঠনিক বিস্তার নিয়ে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের আগ্রহ রয়েছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক মাঠে বিএনপির দৃশ্যমানতা মূলত ধারাবাহিক মিছিল, বিক্ষোভ ও অঙ্গসংগঠনের কর্মসূচিকে ঘিরে। জামায়াতের কর্মসূচিতে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি, জনদুর্ভোগসহ বিভিন্ন ইস্যু গুরুত্ব পাচ্ছে। আর এনসিপি স্থানীয় পর্যায়ে সংগঠন গোছানোর পাশাপাশি বৃহত্তর রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছে।
এদিকে বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপির বাইরে গণসংহতি আন্দোলনও নারায়ণগঞ্জে জনজীবনের ইস্যুতে মাঠে রয়েছে। ২৫ সেপ্টেম্বর জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে বাসভাড়া বৃদ্ধির প্রতিবাদে দলটি বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে।
নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে এখন সবচেয়ে আলোচিত বিষয়গুলোর একটি স্থানীয় সরকার নির্বাচন। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপির সম্ভাব্য প্রস্তুতি নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।
ফলে আগামী দিনগুলোতে শুধু রাজপথের কর্মসূচি নয়, ইউনিয়ন, উপজেলা ও সিটি পর্যায়ে সাংগঠনিক উপস্থিতি, সম্ভাব্য প্রার্থী বাছাই, স্থানীয় নেতাদের তৎপরতা এবং ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ এসব বিষয়ও দলগুলোর রাজনৈতিক অবস্থান বোঝার গুরুত্বপূর্ণ সূচক হয়ে উঠতে পারে।
সব মিলিয়ে নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক মাঠে বর্তমানে একদিকে বিএনপির ধারাবাহিক রাজপথের কর্মসূচি, অন্যদিকে জামায়াতের জনসম্পৃক্ত ইস্যুভিত্তিক তৎপরতা এবং এনসিপির সাংগঠনিক বিস্তারের চেষ্টা তিন ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডই দেখা যাচ্ছে। আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে ঘিরে এসব তৎপরতা কোন দিকে যায়, সেটিই এখন স্থানীয় রাজনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণের বিষয়।

