নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়ায় সর্বসাধারণের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত ঐতিহাসিক শহীদ জিয়া হল পুনর্নির্মাণের লক্ষ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে মাটি পরীক্ষা তথা সয়েল টেস্ট কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে। সোমবার দুপুরে চাষাঢ়াস্থ হলের প্রাঙ্গণে এই কার্যক্রমের সূচনা করা হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কাজের শুভ উদ্বোধন করেন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবুল কালাম এবং নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের (নাসিক) প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান।
সকাল সাড়ে ১১টার দিকে ফলক উন্মোচনের মাধ্যমে সয়েল টেস্ট কার্যক্রমের সূচনা করা হয়। পরে অতিথিরা প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করেন
অনুষ্ঠানে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের (নাসিক) প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান বলেছেন, চাষাঢ়ার ঐতিহাসিক জিয়া হলকে আধুনিক ও পূর্ণাঙ্গ সাংস্কৃতিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হবে। ১২০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিতব্য ১১ তলা ভবনে থাকবে আধুনিক সব সুযোগ-সুবিধা।
সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, ‘জিয়া হলটি ১১ তলা বিশিষ্ট হবে। এর মধ্যে দুই তলা থাকবে মাটির নিচে। সেখানে প্রায় ৫০০ গাড়ি রাখার ব্যবস্থা ও পার্কিং থাকবে। পরবর্তী ধাপে একটি সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে যেসব সুবিধা থাকা দরকার, নাট্যশালা, লাইব্রেরি, কমিউনিটি সেন্টারসহ সব ধরনের সুবিধা এখানে রাখা হবে। পাশাপাশি প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও থাকবে।’
তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি, এটি নারায়ণগঞ্জের একটি সাংস্কৃতিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠবে। এখান থেকে নারায়ণগঞ্জের মানুষ বাংলাদেশসহ সারা পৃথিবীতে তাদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য তুলে ধরার সুযোগ পাবে।’
প্রকল্পের অর্থায়ন প্রসঙ্গে নাসিক প্রশাসক বলেন, ‘এই প্রকল্পের বাজেট ১২০ কোটি টাকা। পুরো অর্থায়ন করবে জাইকা (JICA)।’
তিনি আরও বলেন, ‘স্থানীয় সংসদ সদস্য, নাসিক প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের প্রচেষ্টায় জিয়া হলের পুনর্নির্মাণের কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। সয়েল টেস্টের মাধ্যমে কার্যক্রমের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ শুরু হলো। আমরা খুব দ্রুত জিয়া হলকে নতুন রূপে বাস্তবে দেখতে পারব বলে বিশ্বাস করি।’
সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, ‘জিয়া হলকে শুধু একটি ভবন হিসেবে নয়, বরং নারায়ণগঞ্জের মানুষের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। এখানে সাংস্কৃতিক চর্চা, নাট্যচর্চা, জ্ঞানচর্চা ও প্রশিক্ষণের সুযোগ থাকবে। এর মাধ্যমে নারায়ণগঞ্জের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে আরও ব্যাপকভাবে তুলে ধরার সুযোগ সৃষ্টি হবে।’

