মাদক, ছিনতাই, চাঁদাবাজি ও অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের দৌরাত্ম্যে নারায়ণগঞ্জের মানুষ নানা ধরনের ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন বলে মন্তব্য করেছেন জেলা পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান। এসব অপরাধ ও সামাজিক ব্যাধি নির্মূলে শুধু পুলিশের অভিযান নয়, সমাজের সর্বস্তরের মানুষের সম্মিলিত সহযোগিতা প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন তিনি।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকালে শহীদ রিয়া গোপ ক্রিকেট স্টেডিয়াম এলাকায় ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিদর্শন ও র্যালি শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন পুলিশ সুপার। এ সময় জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির উপস্থিত ছিলেন।
এসপি হাবিবুর রহমান বলেন, নারায়ণগঞ্জ একটি গুরুত্বপূর্ণ শিল্পনগরী হওয়ায় দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা বিপুলসংখ্যক মানুষের বসবাস রয়েছে এখানে। এর ফলে নানা ধরনের অপরাধের পাশাপাশি মাদক একটি বড় সামাজিক সমস্যা হিসেবে দেখা দিয়েছে। ছিনতাই, চাঁদাবাজি এবং অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের কর্মকাণ্ডেও সাধারণ মানুষ জর্জরিত।
তিনি বলেন, মাদক নির্মূলে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। যেসব এলাকায় মাদকের স্পট রয়েছে, সেসব স্থানে অভিযান চালানোর পাশাপাশি ভাসমান মাদক ব্যবসায়ীদেরও আইনের আওতায় আনা হচ্ছে।
পুলিশ সুপার বলেন, ‘মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। কোথায় মাদকের কারবার চলছে বা কারা এর সঙ্গে জড়িত—এ ধরনের তথ্য পুলিশের কাছে পৌঁছে দিলে ব্যবস্থা নেওয়া সহজ হবে। শুধু পুলিশের পক্ষে এ সমস্যা পুরোপুরি নির্মূল করা সম্ভব নয়, এজন্য সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।’
নারায়ণগঞ্জকে অপরাধমুক্ত ও শান্তিপূর্ণ নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে সব রাজনৈতিক দল ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি। সরকারি দলের অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ সব রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের পুলিশের চলমান কার্যক্রমে সহযোগিতার আহ্বান জানিয়ে এসপি বলেন, সবাই সম্মিলিতভাবে কাজ করলে একটি সুস্থ ও সুন্দর সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।
এদিকে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের গুরুত্ব তুলে ধরে পুলিশ সুপার বলেন, শুধু সরকারি উদ্যোগে নয়, প্রত্যেক নাগরিককে নিজ নিজ জায়গা থেকে পরিচ্ছন্নতার দায়িত্ব নিতে হবে। প্রতি শনিবার বাড়িঘর, আঙিনা, অফিস-আদালত, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।
তিনি বলেন, প্রত্যেকে নিজের অবস্থান থেকে পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করলে পরিবেশ ও স্বাস্থ্যঝুঁকি অনেকটাই কমে আসবে। এর মাধ্যমে দেশ, জাতি ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে একটি নিরাপদ ও সুন্দর পরিবেশ উপহার দেওয়া সম্ভব হবে।
পুলিশ সুপার আরও বলেন, ‘সবাই মিলে কাজ করলে মানুষের স্বাভাবিক চলাচল, ব্যবসা-বাণিজ্য ও নিরাপদ জীবনযাপনের যে নাগরিক অধিকার, তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। নারায়ণগঞ্জকে একটি সুন্দর ও বাসযোগ্য নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে প্রশাসন, পুলিশ এবং সাধারণ মানুষকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।’
এ সময় সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এসএম ফয়েজ উদ্দিন, প্রকৌশলী ইয়াছিন আরাফাত, ফতুল্লা থানা বিএনপির সভাপতি শহিদুল ইসলাম টিটু, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুল বারী ভুইঁয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক রিয়াদ মোহাম্মদ চৌধুরী, কুতুবপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মনিরুল ইসলাম সেন্টুসহ বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

