মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে সড়ক ও রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ বলেছেন, মাদক নির্মূলে কোনো ধরনের রাজনৈতিক প্রভাব বা সংশ্লিষ্টতা বরদাশত করা হবে না। প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষভাবে মাদক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত যেকোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সোমবার (৩১ আগস্ট) দুপুরে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবিরের সভাপতিত্বে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, মাদকের বিষয়ে সরকার কোনো ধরনের ছাড় দিতে চায় না। প্রয়োজন হলে মাদকবিরোধী কার্যক্রমে আরও কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে। শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিয়মিত অভিযান দিয়ে মাদক নির্মূল সম্ভব নয়। এ জন্য প্রশাসনের পাশাপাশি রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে সবাইকে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে।
তিনি বলেন, নারায়ণগঞ্জের যেসব এলাকায় মাদকের বিস্তার বেশি, সেসব এলাকায় চিহ্নিত করে টাস্কফোর্সের মাধ্যমে ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনা করতে হবে। নিয়মিত ও সমন্বিত অভিযান চালানো গেলে মাদক ব্যবসায়ীদের নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব এবং নারায়ণগঞ্জকে মাদকমুক্ত করার পথ তৈরি হবে।
হাবিবুর রশিদ আরও বলেন, অতীতে নারায়ণগঞ্জে খুনের সংস্কৃতির অভিযোগ ছিল। এসব ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দায়ীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। একই সঙ্গে সরকার ও প্রশাসনের কাজে যারা বাধা সৃষ্টি কিংবা বিব্রত করার চেষ্টা করছে, তাদের বিরুদ্ধেও যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, সরকার দেশের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে কাজ করছে। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালাতে হবে।
সভায় নারায়ণগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মুস্তাফিজুর রহমান দিপু ভূইয়া, নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবুল কালাম, নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল আমিন, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান, নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ এবং জেলা পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান মুন্সিসহ জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, মাদক নিয়ন্ত্রণ, অপরাধ দমন, জননিরাপত্তা এবং অতীতের বিভিন্ন অপরাধের বিষয়ে আলোচনা করা হয়। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও উন্নত করতে সমন্বিতভাবে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

