নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের কার্যক্রম পরিচালনা এবং সরকারবিরোধী মিছিল-স্লোগানের প্রস্তুতির অভিযোগে ৬৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে পুলিশ। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ৮০ থেকে ৯০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
রোববার (৩০ আগস্ট) ফতুল্লা মডেল থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলাটি করেন হাজীগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) মো. দেলোয়ার হোসেন।
মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে বিসিক শাসনগাঁও এলাকার রাব্বি (২০), ইয়াছিন আরাফাত (২০), শিমুল (২০), গলাচিপার পলক (১৮), পাইকপাড়ার আবরার আহম্মেদ (১৮), বিসিকের ফেরদাউছ (১৮), শাসনগাঁওয়ের তানভির হোসেন (১৮), নয়ন (১৯) ও আবু বক্করকে (১৮)।
পুলিশের দাবি, মিছিলের প্রস্তুতি চলছিল
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, শনিবার (২৯ আগস্ট) রাত ১১টার দিকে ফতুল্লার শান্তিধারা ২ নম্বর রোডের একটি মসজিদের পাশে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের সদস্যরা সরকারবিরোধী মিছিল ও স্লোগানের প্রস্তুতি নিচ্ছেন—এমন খবর পায় পুলিশ।
খবর পেয়ে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানিয়ে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে অভিযান চালায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে সেখানে থাকা কয়েকজন পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় নয়জনকে আটক করা হয়।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, আটক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদে মামলায় নাম থাকা আরও কয়েকজনের নাম-ঠিকানা পাওয়া যায়।
এজাহারে পুলিশ আরও দাবি করেছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সক্রিয় সদস্য ও সমর্থক। সংগঠনগুলোর কার্যক্রম চালু রাখা, সরকারবিরোধী কর্মকাণ্ড এবং ষড়যন্ত্রের উদ্দেশ্যে তারা সেখানে জড়ো হয়েছিলেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
এছাড়া সাবেক সংসদ সদস্য শামীম ওসমান ও তার ছেলে অয়ন ওসমানের প্ররোচনায় অজ্ঞাতনামা আরও ব্যক্তিদের নিয়ে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের কার্যক্রম পরিচালনা ও সহযোগিতা করার অভিযোগও এজাহারে উল্লেখ করেছে পুলিশ।
মামলায় আরও যাদের নাম
মামলায় নাম থাকা অন্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন—স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের জন্য অভিযুক্ত কুতুবপুরের পাগলা এলাকার মীর হোসেন মিরু (৪৫), পাগলা কামালপুরের মনা দাস (৪৫), শিয়াচর তক্কারমাঠের শামীম, পিলকুনির ইমরান হোসেন শুভ ওরফে চান শুভ, ফতুল্লা সরকারবাড়ির অন্তর (২২) ও হৃদয় (২৬), পোস্ট অফিস রোডের মুশফিকুর রহমান তুষার (২৮) ও মেহেদি হাসান তন্ময় (২২), আলীগঞ্জের শাহাদাত হোসেন সেন্টু (৩৮) ও সাত্তার (৪৫), পিলকুনির সিনহা (২৮), রঘুনাথপুরের মোবারক হোসেন মুন্সি (৩০), সাইনবোর্ডের শান্তিধারার শেখ জামাল (৩২) ও রবিন মাহমুদ (৩০)।
এছাড়া ফতুল্লার হক রোলিং মিল এলাকার রুমিন আজমিন (৩০), দাপা ইদ্রাকপুরের খোকা (২৬), কাশীপুরের ইরফান হোসেন লিমন (৩০) ও ফয়সাল দর্পন (৩৫), আলীগঞ্জের আবুল (৪৫), দক্ষিণ নয়ামাটির মো. পারভেজ (৩৫), মোহাম্মদ আলাউদ্দিন (৪০) ও মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন (৫০), পাগলা রেললাইনের মো. সেলিম (৪৭), দক্ষিণ নয়ামাটির মোহাম্মদ সোহেল (৩০) ও মোহাম্মদ সৌরভ (৩৫), শান্তিধারার মতিউর রহমান (৫২) ও মো. আশরাফুল ইসলাম (৪০), রঘুনাথপুরের মারুফ (৩৩), ভূঁইগড় পূর্বপাড়ার ইব্রাহিম মামুন (৪০), রঘুনাথপুরের ইমরান (৩৫), মাহমুদপুরের মোবারক (৫৫), মো. মান্নান (৩৫), মো. আতিক (২৩) ও সুমন (৩৫) রয়েছেন।
মামলায় আরও রয়েছেন শান্তিধারার আলতাফ হোসেন বাবু ওরফে লুঙ্গী বাবু (৪০), শাহিন (৪৫) ও শান্ত (২৫), পশ্চিম দেলপাড়ার আব্দুল মালেক (৫০), শাওন (৩৫), লিয়াকত (৪৫) ও রাব্বি (৩০), চাষাঢ়া মহিলা কলেজ রোডের সূর্যেন্দু মিত্র, মাহমুদপুরের শামীম (৩৩), ফতুল্লার শিবু (৩০), ভূঁইগড়ের মো. রনি (২৮), হুমায়ন কবির (৪৫), রয়েল (৩৫), জাহিদ (২৫) ও অপু (৩৪)।
এছাড়া চাঁদনী হাউজিংয়ের মো. সেলিম (৪২), ইয়াসিন (৩০) ও মোহাম্মদ ইসমাইল (৩৫), গুলশান রোডের মো. আরিফ (৩২), ভূঁইগড় পূর্বপাড়ার মো. মনির হোসেন (৪২) ও মো. রিপন (৩৬) এবং সাইনবোর্ডের শান্তিধারার মিল্টন (২৭)-এর নামও এজাহারে রয়েছে।
ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাহবুব আলম বলেন, মামলায় কয়েকজন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

