নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর ছাত্রদলের সাংগঠনিক কার্যক্রম দীর্ঘদিন ধরে কার্যত নেতৃত্বশূন্য অবস্থায় চলছে। সর্বশেষ কমিটি গঠনের প্রায় দেড় বছর পর ২০২৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর মেয়াদোত্তীর্ণ দেখিয়ে জেলা ও মহানগর ছাত্রদলের কমিটি বিলুপ্ত করে কেন্দ্রীয় সংসদ। একই সঙ্গে জেলা ও মহানগরের অধীন উপজেলা, থানা, পৌরসভা, ইউনিয়ন, ওয়ার্ড ও কলেজ শাখার কমিটিও বিলুপ্ত করা হয়। নতুন কমিটি দ্রুত ঘোষণা করার কথা বলা হলেও দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও নতুন জেলা ও মহানগর কমিটি গঠনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা পাওয়া যায়নি।
২০২৩ সালের ২৬ জানুয়ারি নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের নয় সদস্যের আংশিক কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়। এতে নাহিদ হাসান ভূঁইয়াকে সভাপতি এবং জুবায়ের রহমান জিকুকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়। কমিটিতে সিনিয়র সহ-সভাপতি ছিলেন সুলতান মাহমুদ, সহ-সভাপতি সাগর সিদ্দিকী ও আতা ই রাব্বি, সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক জাকারিয়া ভূঁইয়া, যুগ্ম সম্পাদক আমিনুল ইসলাম ও আবু তাহের রিফাত এবং সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদী হাসান দোলন। কেন্দ্র থেকে ৩০ দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছিল।
অন্যদিকে একই দিনে রাকিবুর রহমান সাগরকে সভাপতি এবং রাহিদ ইসতিয়াক সিকদারকে সাধারণ সম্পাদক করে ছয় সদস্যের নারায়ণগঞ্জ মহানগর ছাত্রদলের কমিটি ঘোষণা করা হয়। কমিটির অন্যরা ছিলেন সিনিয়র সহ-সভাপতি শাহাজাদা রতন, সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক আজিজুল ইসলাম রাজিব, যুগ্ম সম্পাদক ওসমান প্রীতম এবং সাংগঠনিক সম্পাদক মো. রাসেল।
২০২৩ সালের ২৬ জানুয়ারি ঘোষিত ওই দুই কমিটি ২০২৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর বিলুপ্ত হয়। অর্থাৎ আংশিক কমিটি ঘোষণার প্রায় ২০ মাসের মাথায় কেন্দ্রীয় ছাত্রদল এগুলোকে মেয়াদোত্তীর্ণ ঘোষণা করে। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—জেলা কমিটিকে ৩০ দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ করার নির্দেশ দেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ জেলা কমিটি ঘোষণা করা হয়নি। মহানগরের ক্ষেত্রেও পরবর্তী সময়ে পূর্ণাঙ্গ কমিটি করা হলেও ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে পুরো কাঠামোই বিলুপ্ত করা হয়।
কমিটি বিলুপ্তির সঙ্গে সঙ্গে জেলা ও মহানগরের অধীনস্থ বিভিন্ন ইউনিটও বাতিল হওয়ায় ছাত্রদলের সাংগঠনিক কাঠামোতে বড় ধরনের শূন্যতা তৈরি হয়। ফলে নতুন নেতৃত্ব তৈরি, সাংগঠনিক সভা, ইউনিট পুনর্গঠন এবং তৃণমূল কর্মীদের রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় রাখার ক্ষেত্রে সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। ২০২৫ সালেও স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন কমিটির দাবিতে হতাশা ও ক্ষোভের কথা প্রকাশিত হয়েছিল।
২০২৬ সালের মে মাসেও নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের নতুন কমিটি শিগগির ঘোষণার সম্ভাবনার খবর প্রকাশিত হয়। কেন্দ্রীয় পর্যায়ে কমিটি চূড়ান্ত হয়েছে বলেও ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল। একই সময়ে মহানগর ছাত্রদলের নতুন কমিটি ঘোষণার সম্ভাবনা নিয়েও খবর প্রকাশিত হয়। তবে পরবর্তী সময়ে জেলা ও মহানগর—দুই শাখার নতুন কমিটি ঘোষণার বিষয়ে নির্ভরযোগ্য আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি পাওয়া যায়নি।
দীর্ঘদিন কমিটি না থাকায় জেলা ও মহানগর ছাত্রদলের বিভিন্ন পর্যায়ের সাবেক নেতাকর্মী ও পদপ্রত্যাশীদের মধ্যে নতুন করে তৎপরতা বেড়েছে। বিশেষ করে যারা আগের কমিটিতে বিভিন্ন পদে ছিলেন এবং বিএনপির আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ছিলেন, তাদের পাশাপাশি কলেজ ও স্থানীয় ইউনিট পর্যায়ের নতুন নেতৃত্বও জেলা ও মহানগর কমিটিতে জায়গা পাওয়ার প্রত্যাশা করছে। স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে সম্ভাব্য সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ গুরুত্বপূর্ণ পদ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা চলছে।
কমিটি না থাকার প্রভাব তৃণমূল কার্যক্রমেও পড়ছে। সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে ছাত্রদলের কর্মীদের উপস্থিতি দেখা গেলেও কেন্দ্রীয়ভাবে অনুমোদিত জেলা বা মহানগর নেতৃত্ব না থাকায় সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত ও কর্মীদের দিকনির্দেশনার ক্ষেত্রে শূন্যতা তৈরি হয়েছে—এমন অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে মহানগর ছাত্রদলের নেতৃত্বশূন্যতার কারণে বিভিন্ন ইউনিটে সাংগঠনিক দুর্বলতার কথাও উঠে এসেছে।
নারায়ণগঞ্জ বিএনপির রাজনীতিতে জেলা ও মহানগর ছাত্রদল গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক শক্তি হিসেবে বিবেচিত। দীর্ঘ সময় কমিটি না থাকায় একদিকে পুরনো নেতৃত্বের সাংগঠনিক অবস্থান অনিশ্চিত হয়েছে, অন্যদিকে নতুন প্রজন্মের নেতাদের সামনে নেতৃত্বে আসার সুযোগও ঝুলে আছে।
সব মিলিয়ে, ২০২৩ সালের ২৬ জানুয়ারি কমিটি গঠন ২০২৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর মেয়াদোত্তীর্ণ দেখিয়ে বিলুপ্তি এরপর প্রায় দুই বছর ধরে নতুন জেলা ও মহানগর কমিটির অপেক্ষা এই ধারাবাহিকতাই বর্তমানে নারায়ণগঞ্জ ছাত্রদলের সবচেয়ে বড় সাংগঠনিক বাস্তবতা। ২০২৬ সালে নতুন কমিটি ঘোষণার আলোচনা কয়েক দফা সামনে এলেও এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন জেলা ও মহানগর কমিটি ঘোষণার তথ্য নিশ্চিত করা যায়নি।

