পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে নারায়ণগঞ্জে বর্ণাঢ্য জশনে জুলুস ও শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (২৬ আগস্ট) বেলা ১১টায় শহরের নিতাইগঞ্জ থেকে শোভাযাত্রাটি শুরু হয়ে ২ নম্বর রেলগেট ও চাষাঢ়া প্রদক্ষিণ করে পুনরায় নিতাইগঞ্জে এসে শেষ হয়।
শোভাযাত্রা শেষে সেখানে আলোচনা সভা ও বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে ধর্মপ্রাণ মুসলমানসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার কয়েক হাজার মানুষ অংশ নেন।
ইমামে আহলে সুন্নাত আল্লামা সৈয়দ বাহাদুর শাহ মোজাদ্দেদী আল আবেদীর নেতৃত্বে জশনে জুলুসটি নগরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এ সময় বিভিন্ন স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে শহরের প্রধান সড়কগুলো।
আয়োজকরা জানান, মহানবী হযরত মুহাম্মদ মোস্তফা (সা.)-এর জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে স্বাধীনতার পর থেকেই নারায়ণগঞ্জে প্রতিবছর এ আয়োজন হয়ে আসছে।
ঈদে মিলাদুন্নবী জশনে জুলুস উদযাপন কমিটি নারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি মোহাম্মদ সোহাগ বলেন, শহরের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা বজায় রেখে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ বছর ধরে এ আয়োজন চলে আসছে। এবারও মুর্শিদ বাহাদুর শাহ মোজাদ্দেদীর নেতৃত্বে সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখা হয়েছে।
তিনি বলেন, মুসলমানদের মধ্যে ঐক্য রয়েছে এবং রাসুল (সা.)-এর প্রতি ভালোবাসা ও তাঁর আদর্শের বিষয়ে কোনো মতপার্থক্য নেই। এ আয়োজনে বিভিন্ন আলেম, কওমি ও মাদরাসার শিক্ষার্থীরাও অংশ নিয়েছেন। কওমি, সুন্নি কিংবা আলিয়া—পরিচয় যা-ই হোক, সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, ইসলাম ও মহানবী (সা.)-এর আদর্শকে ভিন্ন পথে পরিচালিত করার অপচেষ্টা চলছে। এ ধরনের অপচেষ্টার বিরুদ্ধে মুসলমানদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মাশুকুল ইসলাম রাজিব বলেন, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-কে কেউ কটাক্ষ করলে তার মোকাবিলা করা মুসলমানদের ঈমানি দায়িত্ব। তবে নবীর আদর্শের বাইরে কোনো নির্দেশনা বা ফতোয়া মানা হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
আলোচনা সভা শেষে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।

