নারায়ণগঞ্জে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের পর সৃষ্ট বিরোধ নিরসনে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর জ্যেষ্ঠ নেতাদের মধ্যস্থতায় সমঝোতা হলেও এ নিয়ে ছাত্রদলের তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে সংঘর্ষে আহত ছাত্রদল নেতাকর্মীদের চিকিৎসা ও খোঁজখবর নেওয়ার ক্ষেত্রে দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন অনেকে।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাতে নারায়ণগঞ্জ শহরের কালীরবাজার এলাকায় নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবুল কালামের বাসভবনে বিএনপি ও জামায়াতের জ্যেষ্ঠ নেতাদের উপস্থিতিতে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে সরকারি তোলারাম কলেজের ছাত্রাবাসে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ নিয়ে আলোচনা করা হয়।
আলোচনা শেষে ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকে খোয়া যাওয়া একটি ল্যাপটপ ও পাঁচটি মোবাইল ফোনের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি উত্থাপন করা হলে বিএনপি নেতারা তা পরিশোধে সম্মতি জানান। এর মাধ্যমে দুই পক্ষের মধ্যে চলমান বিরোধ নিরসনের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবুল কালাম, নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান, সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু, মহানগর জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা আব্দুল জব্বার এবং জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা মঈনুদ্দিন আহমাদসহ উভয় দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা।
এর আগে গত ৫ আগস্ট দুপুরে শহরের চাষাঢ়া ও কলেজ রোড এলাকায় ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এতে দুই পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে তোলারাম কলেজ শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি এমদাদুল হক শুভ, সাধারণ সম্পাদক তামিম, অর্থ সম্পাদক জুবায়ের, মনির ও ইসমাইল এবং ছাত্রদল নেতা তুহিন আহমেদসহ কয়েকজন রয়েছেন।
সংঘর্ষের পর জামায়াতে ইসলামীর জেলা ও মহানগরের জ্যেষ্ঠ নেতারা হাসপাতালে গিয়ে আহত শিবির নেতাকর্মীদের খোঁজখবর নেন এবং চিকিৎসার বিষয়ে সহযোগিতা করেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
অন্যদিকে, আহত ছাত্রদল নেতাকর্মীদের কয়েকজন নারায়ণগঞ্জ ভিক্টোরিয়া জেনারেল হাসপাতালে নিজ উদ্যোগে চিকিৎসা নেন বলে জানা গেছে। দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের পক্ষ থেকে হাসপাতালে গিয়ে তাদের খোঁজখবর নেওয়া কিংবা চিকিৎসায় সহায়তার উদ্যোগ না থাকায় ছাত্রদলের তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
তৃণমূলের নেতাকর্মীদের অভিযোগ, রাজনৈতিক বিরোধ মীমাংসার পাশাপাশি সংঘর্ষে আহত নিজেদের নেতাকর্মীদের পাশে দাঁড়ানোও সাংগঠনিক নেতৃত্বের দায়িত্ব। এ ক্ষেত্রে দৃশ্যমান উদ্যোগ না থাকায় তাদের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে।
তবে বৈঠকের মাধ্যমে দুই পক্ষের বিরোধ নিরসনের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের প্রত্যাশা, ভবিষ্যতে এ ধরনের সংঘাত এড়িয়ে রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে পারস্পরিক সহনশীলতা বজায় থাকবে।

