মহাসড়কে যান চলাচলে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা, দুর্ঘটনা কমানো এবং ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও স্বচ্ছ ব্যবস্থা নিতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে চালু হয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিনির্ভর ‘অটো ফাইন সিস্টেম’।
মঙ্গলবার নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ের মেঘনাঘাটে হাইওয়ে পুলিশের ‘কমান্ড, কন্ট্রোল অ্যান্ড মনিটরিং সেন্টার’-এ আয়োজিত অনুষ্ঠানে নতুন এ প্রযুক্তির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মহাসড়কে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় এ উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনবে। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ব্যবস্থাটির কার্যকারিতা ও অভিজ্ঞতা পর্যালোচনা করে পর্যায়ক্রমে দেশের অন্যান্য মহাসড়কেও এআই প্রযুক্তি চালু করা হবে।
মহাসড়কে চাঁদাবাজি বন্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, মালিক, শ্রমিক সংগঠন কিংবা পুলিশের কেউ চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত থাকলেও সিসিটিভি ও এআই ক্যামেরায় তা রেকর্ড হবে। প্রযুক্তির ব্যবহারে এ ধরনের অপরাধ কমিয়ে মহাসড়ককে চাঁদাবাজিমুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এ সময় মহাসড়কে অবৈধ ও লাইসেন্সবিহীন থ্রি-হুইলার এবং নন-মোটরাইজড যানবাহন চলাচলের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান তিনি। তবে স্থানীয় ফিডার সড়ক ব্যবহার ও সিএনজি স্টেশন থেকে জ্বালানি নেওয়ার মতো প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো শৃঙ্খলার সঙ্গে সমন্বয়ের জন্য হাইওয়ে পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
হাইওয়ে পুলিশের প্রধান ও অতিরিক্ত আইজি ফারুক আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি ও সংসদ সদস্য শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নান এবং পুলিশের আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির।
সংশ্লিষ্টরা জানান, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের একটি নির্দিষ্ট প্রকল্পের আওতায় ইতোমধ্যে ৪৯০টি পিলারে এআই ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। এসব ক্যামেরার মাধ্যমে নির্ধারিত গতিসীমার বেশি গতিতে গাড়ি চালানো, ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং, ট্রাফিক সিগন্যাল অমান্য, উল্টোপথে চলাচল ও অবৈধ পার্কিংসহ বিভিন্ন ধরনের আইন লঙ্ঘন স্বয়ংক্রিয়ভাবে শনাক্ত ও রেকর্ড করা যাবে।
আইন লঙ্ঘনকারী গাড়ি শনাক্ত হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট তথ্য সরাসরি বিআরটিএর ডেটাবেজে পাঠানো হবে। পরে নিবন্ধিত মালিকের মোবাইল নম্বরে এসএমএসের মাধ্যমে মামলার তথ্য জানানো হবে। এরপর মালিকরা মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের (এমএফএস) মাধ্যমে ঘরে বসেই জরিমানার অর্থ পরিশোধ করতে পারবেন।
বারবার ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে বিআরটিএর বিধি অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট গাড়ির রেজিস্ট্রেশন বাতিলসহ কঠোর প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ থাকবে।
অনুষ্ঠান থেকে নতুন এই প্রযুক্তি সফলভাবে বাস্তবায়নে হাইওয়ে পুলিশ, বাংলাদেশ পুলিশ, পরিবহন মালিক-শ্রমিক সংগঠন এবং সাধারণ জনগণকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়। পাশাপাশি গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক জনসচেতনতা তৈরির ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।

