নারায়ণগঞ্জের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে সংঘটিত হামলা ও অস্থিতিশীল পরিস্থিতির ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক। একই সঙ্গে তিনি শিক্ষাঙ্গনের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে সকল রাজনৈতিক দল ও সংশ্লিষ্ট পক্ষের প্রতি সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শন এবং সহাবস্থানের রাজনীতি চর্চার আহ্বান জানিয়েছেন।
সম্প্রতি শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে গণমাধ্যমকে দেওয়া এক ব্রিফিংয়ে প্রশাসক বলেন, নারায়ণগঞ্জে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান বজায় রেখে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। তবে কিছু রাজনৈতিক গোষ্ঠী উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে পরিস্থিতিকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
তিনি বলেন, একটি গোপন সংগঠনের ব্যানারে শিক্ষার্থীদের ওপর যে পরিকল্পিত হামলা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে, তা অত্যন্ত নিন্দনীয় ও উদ্বেগজনক। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে অশান্ত করে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং স্বাভাবিক পরিবেশ ব্যাহত করার অপচেষ্টা চলছে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
গত ছয় মাসের পরিস্থিতির উদাহরণ তুলে ধরে প্রশাসক বলেন, এ সময়ে কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রদল বা তাদের সমর্থকদের পক্ষ থেকে দখলদারিত্ব কিংবা আধিপত্য বিস্তারের অভিযোগ ওঠেনি। বরং কিছু পক্ষ বারবার নিজেদের প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেছে বলে তিনি দাবি করেন। এসব অপচেষ্টার বিরুদ্ধে সাধারণ শিক্ষার্থীরাই প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
পরিকল্পিত হামলা এবং শিক্ষাঙ্গনের পরিবেশ নষ্টের ঘটনাকে জাতি ও দেশের জন্য ক্ষতিকর আখ্যা দিয়ে প্রশাসক বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অস্থিরতা সৃষ্টি হলে তার নেতিবাচক প্রভাব পুরো সমাজের ওপর পড়ে। তাই দেশের বৃহত্তর স্বার্থে সকল পক্ষকে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, শিক্ষাঙ্গনের সুষ্ঠু পরিবেশ রক্ষা, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখতে সবাইকে ধৈর্য ও সংযমের পরিচয় দিতে হবে। একই সঙ্গে উসকানিমূলক ও পরিবেশ বিনষ্টকারী কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থেকে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের সংস্কৃতি গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।

