নারায়ণগঞ্জ নগরীকে আরও পরিচ্ছন্ন ও পরিবেশবান্ধব করতে প্রতিটি মহল্লার বাড়ির সামনে নির্দিষ্ট স্থানে ডাস্টবিন স্থাপনের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান। একই সঙ্গে গলাচিপা এলাকায় একটি পাইলট প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) দুপুরে মাদকবিরোধী আন্দোলনের অংশ হিসেবে নগরীর আল্লামা ইকবাল রোড (কলেজ রোড) এলাকার টিএন্ডটি কলোনির সরকারি পরিত্যক্ত জমি পরিদর্শন শেষে স্থানীয়দের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।
সাখাওয়াত হোসেন খান জানান, গলাচিপা এলাকাকে পরীক্ষামূলকভাবে পরিচ্ছন্নতা ব্যবস্থাপনার আওতায় আনা হচ্ছে। এ জন্য স্থানীয়দের একটি অফিসও দেওয়া হয়েছে। তিনি এলাকাবাসীর প্রতি তিনতলা বা তার বেশি ভবনের তালিকা প্রস্তুতের আহ্বান জানান। এরপর প্রতিটি নির্ধারিত স্থানে প্রায় ২৪০ লিটার ধারণক্ষমতার ডাস্টবিন সরবরাহ করা হবে, যাতে নিয়মিত ও সুষ্ঠুভাবে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা যায়।
তিনি বলেন, পরিচ্ছন্ন নগর গড়তে নাগরিকদেরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। স্থানীয় বাসিন্দাদের সহযোগিতায় এ উদ্যোগ সফল হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
এ সময় শিশু-কিশোরদের খেলাধুলার সুযোগ বাড়াতে সরকারি পরিত্যক্ত পাঁচ একর জমিকে ক্রীড়া প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার প্রস্তাব দেওয়া হবে বলেও জানান নাসিক প্রশাসক। তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন জেলায় বিকেএসপির আদলে আধুনিক ক্রীড়া প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। সেখানে খেলার মাঠ, আবাসন, শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের সমন্বিত ব্যবস্থা থাকবে।
তিনি আরও বলেন, জাতীয় পর্যায়ের অধিকাংশ খেলোয়াড় শহরাঞ্চল থেকেই উঠে এসেছে। তাই শহরকেন্দ্রিক ক্রীড়া অবকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে ভবিষ্যতে আরও দক্ষ খেলোয়াড় তৈরি করা সম্ভব হবে।
মাদক, কিশোর গ্যাং ও সামাজিক অপরাধের বিরুদ্ধে গলাচিপাবাসীর চলমান সামাজিক আন্দোলনের প্রশংসা করে সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, এ লড়াই কোনোভাবেই থেমে যাওয়া উচিত নয়। জনসচেতনতা ও সম্মিলিত উদ্যোগই সমাজকে অপরাধমুক্ত করতে পারে।

