দীর্ঘদিনের অবহেলা ও ভোগান্তির পর অবশেষে সংস্কারের মুখ দেখছে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লার একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক। জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. রায়হান কবিরের দ্রুত উদ্যোগে সড়কটির সংস্কারকাজ চলমান থাকায় স্থানীয় বাসিন্দা, শিক্ষার্থী, শ্রমজীবী মানুষ ও যানবাহন চালকদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, চাষাড়া-সাইনবোর্ড লিংক রোড থেকে চানমারি আর্মি মার্কেট হয়ে বৃহত্তর ইসদাইর এলাকায় প্রবেশের সড়কটি দীর্ঘ কয়েক মাস ধরে বেহাল অবস্থায় পড়ে ছিল। বড় বড় গর্ত, ভাঙা ড্রেনের স্ল্যাব ও খানাখন্দের কারণে প্রতিদিনই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছিল। রিকশা ও অন্যান্য যানবাহন উল্টে যাওয়া, যানবাহনের ক্ষতি এবং পথচারীদের আহত হওয়ার ঘটনাও ছিল নিয়মিত।
স্থানীয়দের ভাষ্য, সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন হাজারো মানুষ চলাচল করেন। পাশাপাশি তিনটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদেরও প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে এই পথ ব্যবহার করতে হতো। দীর্ঘ পাঁচ থেকে ছয় মাস ধরে সড়কটির এমন দুরবস্থার পরও কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ ছিল এলাকাবাসীর।
এ অবস্থায় জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির নিজ কার্যালয়ে যাওয়ার পথে সড়কটির দুরবস্থা প্রত্যক্ষ করেন। জনদুর্ভোগ বিবেচনায় নিয়ে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে জেলা প্রশাসনের নিজস্ব অর্থায়নে দ্রুত সংস্কারকাজ শুরুর নির্দেশ দেন।
নির্দেশনা অনুযায়ী গত ৩০ জুন থেকে সড়কটি সম্পূর্ণ বন্ধ না করে এক পাশ দিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক রেখে অপর পাশে সংস্কারকাজ শুরু করা হয়। বুধবার (১৫ জুলাই) অবশিষ্ট অংশের কাজও দ্রুতগতিতে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে রড, সিমেন্ট, ইটের সুরকি ও বালু ব্যবহার করে টেকসইভাবে ঢালাইয়ের মাধ্যমে সড়কটি পুনর্নির্মাণ করা হচ্ছে।
জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির বলেন, “জনগণের দুর্ভোগ কমানোই প্রশাসনের প্রধান দায়িত্ব। একটি সড়কের কারণে যদি প্রতিদিন শিক্ষার্থী, রিকশাচালক ও সাধারণ মানুষ দুর্ভোগে পড়েন, তাহলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। জনস্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েই আমরা কাজ করছি।”
জেলা প্রশাসকের এই দ্রুত পদক্ষেপে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা। তারা বলেন, দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান ঘটাতে প্রশাসনের এমন কার্যকর উদ্যোগ জনসেবামূলক প্রশাসনেরই প্রতিফলন। এজন্য তারা জেলা প্রশাসকের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
জেলা প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই সংস্কারকাজ সম্পন্ন করে সড়কটি সম্পূর্ণভাবে যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে।

