নারায়ণগঞ্জ শহরের পশ্চিম মাসদাইর এলাকায় বাড়ি থেকে ডেকে এনে ছিনতাইকারী অভিযোগ তুলে বিদ্যুতের খুঁটিতে বেঁধে জিসান (২৫) নামে এক তরুণকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। একই ঘটনায় অনিক নামে আরও এক তরুণ গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ঘটনাটি শনিবার রাতে ঘটলেও এর একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
ভিডিওতে দেখা যায়, বিদ্যুতের খুঁটিতে রশি দিয়ে বাঁধা দুই তরুণকে কয়েকজন ব্যক্তি স্টিলের পাইপ ও লাঠি দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করছেন। নিহত জিসান পশ্চিম মাসদাইর এলাকার ইউনুস মিয়ার ছেলে।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, শনিবার রাতে জিসান ও অনিককে তাঁদের বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তাঁদের ছিনতাইকারী আখ্যা দিয়ে বিদ্যুতের খুঁটিতে বেঁধে রাখা হয়। অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় আল ফালাহ কল্যাণ সংগঠনের নেতা ও আল ফালাহ জামে মসজিদের ইমাম কাওসার হোসেনের নেতৃত্বে কয়েকজন তাঁদের মারধর করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় জিসানকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। অনিক বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
নিহতের বাবা ইউনুস মিয়া অভিযোগ করে বলেন, তাঁর ছেলেকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে নির্মমভাবে মারধর করা হয়েছে। পরিবারের সদস্যরা অনেক অনুরোধ করলেও তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়নি। তিনি এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া আরেকটি ভিডিওতে স্থানীয় এক ব্যক্তিকে হ্যান্ডমাইকে বক্তব্য দিতে দেখা যায়। সেখানে তিনি দাবি করেন, ঘটনাটি জনতার মাধ্যমে ঘটেছে এবং এতে কারও বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে না। একই সঙ্গে তিনি এলাকাবাসীকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান। তবে ওই বক্তব্যের সত্যতা ও প্রেক্ষাপট স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
অন্যদিকে স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, নিহত জিসান ছিনতাই ও মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন এবং এসব অভিযোগে তাঁকে আগেও সতর্ক করা হয়েছিল। তবে এ দাবির পক্ষে স্বাধীনভাবে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও অপারেশন) তারেক আল মেহেদী বলেন, নিহত জিসানের বিরুদ্ধে একটি মারামারির মামলা রয়েছে। তবে কোনো পরিস্থিতিতেই আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার সুযোগ নেই। এ ঘটনায় অভিযোগ বা মামলা হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং দায়ীদের আইনের আওতায় আনা হবে বলে তিনি জানান।

