নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী নিউ লক্ষ্মী নারায়ণ কটন মিলের মালিকানা, শেয়ার বণ্টনে অনিয়ম এবং দখলচেষ্টার অভিযোগ তুলে এবার নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের (নাসিক) প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন মিলটির শেয়ারহোল্ডাররা।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) দুপুর সোয়া ১২টার দিকে নগরভবনে গিয়ে তারা সরাসরি নাসিক প্রশাসকের হাতে অভিযোগপত্র তুলে দেন। এ সময় শেয়ারহোল্ডারদের বক্তব্য শুনে অভিযোগের বিষয়গুলো খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন নাসিক প্রশাসক।
লিখিত অভিযোগে বলা হয়, ২০০১ সালে সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মিলটি ৫১০ জন স্থায়ী শ্রমিক-কর্মচারীর কাছে হস্তান্তর করা হয়। সরকারি গেজেট ও চুক্তি অনুসারে শেয়ারহোল্ডার ছাড়া অন্য কারও মালিক হওয়ার সুযোগ নেই এবং একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ ১০টি শেয়ারের মালিক হতে পারেন। কিন্তু মিলের দায়িত্ব গ্রহণের পর তৎকালীন চেয়ারম্যান সামসুদ্দিন প্রধান ও তার সহযোগীরা অতিরিক্ত শেয়ার বিতরণ, বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) বন্ধ রাখা এবং লভ্যাংশ আত্মসাতের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটিকে সংকটে ফেলেছেন বলে অভিযোগ করা হয়।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, পরবর্তীতে নিজের কর্মকাণ্ড আড়াল করতে সামসুদ্দিন প্রধান স্থানীয় সাবেক সংসদ সদস্য নাসিম ওসমান ও শামীম ওসমানের সহযোগিতায় ‘নীট কনসার্ন গ্রুপ’-এর মাধ্যমে মিলের মালিকানা দখলের চেষ্টা করেন। এই দখলচেষ্টার প্রতিবাদ করায় প্রকৃত শেয়ারহোল্ডারদের দীর্ঘদিন ধরে নানা ধরনের হয়রানি ও নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে বলেও দাবি করা হয়।
শেয়ারহোল্ডারদের ভাষ্য, বিগত সরকারের পতনের পর সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক ব্যক্তিরা এলাকা ছেড়ে গেলেও নীট কনসার্ন গ্রুপ এখনো নিজস্ব লোকজনের মাধ্যমে মিলের জমি ও সম্পত্তি দখলের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। একই সঙ্গে বর্তমান সরকারের নাম ব্যবহার করে বিভ্রান্তিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগপত্রে জানানো হয়, বিষয়টি নিয়ে উচ্চ আদালতে একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে। রিট পিটিশন নম্বর-১৬৬২৩/২০২৩-এর পরিপ্রেক্ষিতে আদালত অবৈধ পরিচালনা পর্ষদ ও নীট কনসার্ন গ্রুপের সব ধরনের কার্যক্রমের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন, যা এখনো কার্যকর রয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস করপোরেশন (বিটিএমসি) আদালতে এই শেয়ার ক্রয়-বিক্রয় প্রক্রিয়াকে অবৈধ বলে মতামত দিয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে।
তাদের অভিযোগ, আদালতের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে এখনো শেয়ারহোল্ডারদের উচ্ছেদের অপচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। ফলে মিলের ভেতরে বসবাসরত প্রকৃত অংশীদাররা চরম নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন। এ অবস্থায় তাদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং মিলের বৈধ মালিকানা রক্ষায় নাসিক প্রশাসকের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা।
এ সময় শেয়ারহোল্ডারদের পক্ষে মো. ইয়াকুব, রবি চন্দ্র দাস, আব্দুল রউফসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, এর আগে গত ২৪ জুন একই অভিযোগ নিয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যাপক মামুন মাহমুদের কাছেও লিখিত আবেদন করেছিলেন শেয়ারহোল্ডাররা। সেসময়ও অভিযোগের বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল।

