নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক অঙ্গন নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপুর বিরুদ্ধে মৌমিতা পরিবহন প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে চাঁদা দাবির অভিযোগ ঘিরে শহরজুড়ে আলোচনা-সমালোচনা চলছে। অন্যদিকে, অভিযোগগুলোকে সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র বলে দাবি করেছেন টিপু।
এ বিষয়ে অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ওসমান পরিবারের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও প্রভাব বিস্তারের সমালোচনা করে আসছেন। এ কারণেই একটি স্বার্থান্বেষী মহল তার বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে অপপ্রচার চালাচ্ছে এবং নানা ধরনের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে।
তিনি দাবি করেন, ওসমান পরিবারের ঘনিষ্ঠ কিছু ব্যক্তি বর্তমানে ভিন্ন রাজনৈতিক পরিচয়ে সক্রিয় থেকে তার বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে মিথ্যা তথ্য ছড়াচ্ছে। এর মাধ্যমে তাকে রাজনৈতিকভাবে দুর্বল করা এবং জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করাই তাদের উদ্দেশ্য।
টিপুর ভাষ্য অনুযায়ী, নারায়ণগঞ্জে বিএনপির সাংগঠনিক কার্যক্রম ও রাজনৈতিক তৎপরতা জোরদার হওয়ায় একটি পক্ষ অস্বস্তিতে পড়েছে। ফলে তারা বিভিন্ন কল্পকাহিনী ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে রাজনৈতিক পরিবেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে।
তিনি নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, একটি মহল আগামী ২৫ ও ২৬ জুনকে কেন্দ্র করে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে। একই সঙ্গে তাকে রাজনৈতিকভাবে কোণঠাসা করার ষড়যন্ত্রও চলছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এদিকে মহানগর যুবদলের সদস্য সচিব শাহেদ আহমেদ টিপুর বক্তব্যের কঠোর সমালোচনা করেছেন। তিনি টিপুকে উদ্দেশ্য করে বিভিন্ন মন্তব্য করেন, যা নিয়েও বিএনপির অভ্যন্তরে আলোচনা শুরু হয়েছে।
অন্যদিকে, নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁ) আসনের সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নানের ছেলে ও জেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক খায়রুল ইসলাম সজিবকে চাঁদাবাজির অভিযোগে রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার বাসা থেকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের সহযোগিতায় তাকে আটক করা হয় বলে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) তারেক আল মেহেদী জানান। শনিবার বিকেলে তাকে ঢাকায় আটক করার পর নারায়ণগঞ্জ পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আনা হয়। সেখানে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আরও তথ্য সংগ্রহের জন্য তাকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) কার্যালয়ে নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
সন্ধ্যায় পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারেক সাংবাদিকদের বলেন, “তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজিসহ কয়েকটি অভিযোগ পেয়েছি আমরা। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে তাকে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার বাসা থেকে হেফাজতে নেওয়া হয়। সেখান থেকে আমাদের সঙ্গে আসার জন্য সহযোগিতা কামনা করি। তিনি আমাদেরকে সহযোগিতা করেছেন। তাকে আমরা এসপি অফিসে জিজ্ঞাসাবাদ করেছি।”
একই সময়ে বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ, পাল্টা অভিযোগ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলমান বাকযুদ্ধকে কেন্দ্র করে নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সামনের দিনগুলোতে এসব ঘটনার প্রভাব স্থানীয় রাজনীতিতে আরও স্পষ্ট হতে পারে।

