নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার পাগলা তালতলা এলাকায় অবস্থিত নির্জন গার্মেন্টস কারখানায় বয়লার বিস্ফোরণের ঘটনায় অন্তত ১১ শ্রমিক আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় কারখানাজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লে ক্ষুব্ধ শ্রমিকরা বিক্ষোভে ফেটে পড়েন।
শুক্রবার (১৯ জুন) সকাল ৮টা ৪০ মিনিটের দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শী ও শ্রমিকদের অভিযোগ, বিস্ফোরিত বয়লারটিতে দীর্ঘদিন ধরে যান্ত্রিক ত্রুটি ছিল। বিষয়টি একাধিকবার কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। তাদের দাবি, মালিকপক্ষের অবহেলা এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতার কারণেই এ দুর্ঘটনা ঘটেছে।
শ্রমিকরা আরও জানান, কারখানার ভেতরে জরুরি বহির্গমন পথ ও চলাচলের বিভিন্ন স্থান মালামাল দিয়ে আটকে রাখা হয়েছিল। ফলে বিস্ফোরণের পর শ্রমিকরা দ্রুত বের হতে না পেরে চরম ভোগান্তিতে পড়েন এবং হতাহতের আশঙ্কা বেড়ে যায়।
দুর্ঘটনার পর পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে শ্রমিকরা কারখানার পিএম জসিম উদ্দিন ও সুপারভাইজার মনিরকে অবরুদ্ধ করে মারধর করেন। পরে খবর পেয়ে ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশ ও শিল্প পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
পুলিশ ও মালিকপক্ষের সঙ্গে আলোচনা শেষে শ্রমিকদের দাবিদাওয়া বিবেচনার আশ্বাস দেওয়া হলে তারা সড়ক অবরোধ কর্মসূচি প্রত্যাহার করেন। বর্তমানে ওই এলাকায় যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।
আহতদের মধ্যে আরবিন, জাকির, মঞ্জু, শাহীন, জয়, হৃদয়, সাবিনা, খাদিজা, নাসিমা, আল-আমিন ও অন্তরের নাম জানা গেছে। তাদের স্থানীয় বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল এবং ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
এদিকে দুর্ঘটনায় একজন শ্রমিকের মৃত্যুর খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লেও ফতুল্লা মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ মাহবুব আলম জানান, মৃত্যুর বিষয়টি এখনো নিশ্চিত নয়। বিষয়টি যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, ঘটনার পরপরই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
এ ঘটনায় বয়লার বিস্ফোরণের প্রকৃত কারণ এবং কারখানার নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোনো ধরনের গাফিলতি ছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

