ডেইলি নারায়ণগঞ্জ টুয়েন্টিফোর ডটকমঃ ২৮ বছর পর বিশ্বকাপে ফেরা স্কটল্যান্ডের কাছে ১-০ ব্যবধানে হারলো ৫২ বছর পর ফেরা হাইতি। প্রথমার্ধে এগিয়ে যায় স্কটল্যান্ড। ওই গোলেই ম্যাচের ফলাফল নির্ধারণ হয়ে যায়। তবে ছেড়ে কথা বলেনি হাইতি। চালিয়েছে একাধিক আক্রমণ।
রোববার (১৪ জুন) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বস্টন স্টেডিয়ামে ২৮ মিনিটে ম্যাচের ফলাফল নির্ধারণ করে দেওয়া গোলটি করেন জন ম্যাকগিন।
ম্যাচ হারলেও স্কটল্যান্ডকে তুমুল চাপে রাখে হাইতি। ম্যাচ শেষে আক্রমণে এগিয়ে ছিল তারাই। একাধিক গোলের সুযোগ হাতছাড়া করে আর জেতা হয়নি। ম্যাচে বল দখল দুই দলই ছিল সমানে-সমান। সঠিক পাস ও আক্রমণে এগিয়ে ছিল হাইতি। ১৩ শট নেয় হাইটি, ৮টি নেয় স্কটিশরা। দুই দলই লক্ষ্যে রাখে সমান ৩টি।
ম্যাচের দ্বিতীয় মিনিটে স্কটল্যান্ডের হাইকির থ্রো-ইন করেন ডান দিক থেকে। যদিও হাইতির ফরোয়ার্ডদের চাপে পড়ে স্কটিশরা। বাধ্য হয় পেছনে খেলতে। এরপর অবশ্য ডান দিক থেকে ভেতরে ঢুকে যান বেন ডক। এরপর শট নিলেও সেটি তেমন জোরালো ছিল না। সহজেই ধরে ফেলেন হাইতির গোলরক্ষক।
পঞ্চম মিনিটে ম্যাচে প্রথম আক্রমণে যায় হাইতি। ডিডসন লউইসিয়ুস বক্সের বাইরে থেকে শট নেন, তবে বলটি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে অনেকটা দূর দিয়ে পোস্টের বাইরে চলে যায়। ফলে স্কটল্যান্ডের গোলের কোনো হুমকি তৈরি করতে পারেনি হাইতি।
১৭ মিনিটে স্কটল্যান্ডের ম্যাকটমিনের শট পোস্টে লাগলে হতাশ হয় স্কটিশ দর্শক ও খেলোয়াড়রা। বেন ডক ডিফেন্সিভ ক্লিয়ারেন্স নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ডান প্রান্তে বল ধরে রাখেন। চাপের মধ্যেও তিনি বলের দখল হারাননি। এরপর তিনি বল পাস দেন স্কট ম্যাকটমিনেকে। বক্সের বাইরে থেকে প্রথম টাচেই ইনস্টেপ শটে গোলের চেষ্টা করেন, কিন্তু বলটি পোস্টে গিয়ে জোরে আঘাত করে ফিরে আসে
২১ মিনিটে হাইতির দ্রুত কাউন্টার অ্যাটাক। বাম প্রান্তে বক্সের ধার ঘেঁষে উইলসন ইসিডোর পড়ে যান এবং ফাউলের আবেদন জানিয়ে হাত তুলেন। তবে তাতে কোনো লাভ হয়নি।
এতক্ষণ দুই দলই চেষ্টা চালালেও আসেনি গোল। ২৮ মিনিটে ডান প্রান্তে দুর্দান্ত নৈপুণ্য দেখান বেন ডক। তিনি দ্রুত গতিতে গোললাইন পর্যন্ত এগিয়ে গিয়ে সে অ্যাডামসকে বল বাড়িয়ে দেন। তার নেওয়া শট ঠেকিয়ে দেন অ্যাডামসের শট গোলরক্ষক। ফিরতি বলে ফাঁকায় পাওয়া জন ম্যাকগিনের শট এক ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে দিক বদলে জালে জড়িয়ে যায়। ১-০ গোলে এগিয়ে যায় স্কটল্যান্ড।
পিছিয়ে পড়ার ৩৪ মিনিটে মাঝমাঠের কাছাকাছি জায়গা থেকে ফ্রি-কিক পায় হাইতি। ফ্রি-কিকটি বক্সের ভেতরে পাঠানো হয়, তবে আক্রমণভাগের খেলোয়াড়রা ঠিকমতো হেডে লক্ষ্যভেদ করতে পারেনি। এর আগে অ্যান্ডি রবার্টসনের বিরুদ্ধে কার্লনেস আর্কুসকে ধাক্কা দেওয়ার অভিযোগে ফাউল দেওয়া হয়। এই সিদ্ধান্তে স্কটল্যান্ডের অধিনায়ক রবার্টসন লাইন্সম্যানের প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করেন। ৩৮ মিনিটে হাইতির ফরোয়ার্ডরা দারুণ সমন্বয়ে আক্রমণ তৈরি করলেও সেটি কাজে দেয়নি।
৪০ মিনিটে স্কটল্যান্ডে ফ্রি-কিক পায়। হাইতির উইলসন ইসিডরের ফাউলের কারণে সেট-পিস পায় তারা। অ্যান্ডি রবার্টসনের নেওয়া ক্রস বক্সের ভেতরে পড়ে, যা হাইতির একজন ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে বাউন্স করে। তবে তার সতীর্থ দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে বলটি ক্লিয়ার করে দেয়। ফলে স্কটল্যান্ডের সুযোগ নষ্ট হয়ে যায়।

