নারায়ণগঞ্জকে চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও মাদকমুক্ত নগরী হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু। তিনি বলেছেন, ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিবেশ সুরক্ষিত রাখতে এবং গণতান্ত্রিক চর্চা নিশ্চিত করতে আগামী দিনে বিভিন্ন সংগঠনে নির্বাচনের সংস্কৃতি ফিরিয়ে আনা হবে।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) দুপুরে নগরীর হোসিয়ারি সমিতির কমিউনিটি সেন্টারে বাংলাদেশ হোসিয়ারি অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত মিলাদ ও দোয়া মাহফিলে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
টিপু বলেন, নারায়ণগঞ্জের ব্যবসায়ী সমাজ দীর্ঘদিন ধরে নানা সংকটের মধ্য দিয়ে গেছে। অতীতে প্রভাবশালী গোষ্ঠীগুলোর কারণে অনেক ব্যবসায়ী সংগঠনে স্বাভাবিক নির্বাচন ব্যাহত হয়েছে বলে অভিযোগ করে তিনি বলেন, ভবিষ্যতে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার বাইরে কোনো নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার সুযোগ থাকবে না।
নিজের পারিবারিক ঐতিহ্যের কথা উল্লেখ করে মহানগর বিএনপির এই নেতা বলেন, তার পরিবার দীর্ঘদিন ধরে হোসিয়ারি শিল্পের সঙ্গে সম্পৃক্ত। স্বাধীনতার আগে নারায়ণগঞ্জের বস্ত্র ও হোসিয়ারি খাত দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে এবং সেই ঐতিহ্যকে আরও সমৃদ্ধ করতে বর্তমান ব্যবসায়ীদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।
বক্তব্যে তিনি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের অর্থনৈতিক অবদানের প্রসঙ্গ তুলে ধরে বলেন, দেশের তৈরি পোশাক শিল্পের বিকাশে তার গৃহীত নীতিমালা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। শিল্প ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরির মাধ্যমে তিনি দেশের অর্থনীতিকে নতুন ভিত্তির ওপর দাঁড় করানোর চেষ্টা করেছিলেন।
রাজনৈতিক প্রসঙ্গ টেনে টিপু বলেন, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের অপকর্মের অভিযোগ পাওয়া গেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন। ফলে বিএনপির নাম ব্যবহার করে কেউ অনিয়ম বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়ালে তাকে ছাড় দেওয়া হবে না।
নগর উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি নারায়ণগঞ্জে একটি পূর্ণাঙ্গ মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠা এবং উকিলপাড়া-নয়ামাটি সড়ক প্রশস্তকরণের দাবি জানান। তার মতে, দ্রুত নগরায়নের কারণে অগ্নিনিরাপত্তা ও যান চলাচলের সুবিধা নিশ্চিত করতে এসব উদ্যোগ বাস্তবায়ন জরুরি।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ হোসিয়ারি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি বদিউজ্জামান বদু। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ। প্রধান বক্তা ছিলেন বিএনপি নেতা ও বিসিবি পরিচালক মাসুদুজ্জামান মাসুদ।
এছাড়া বক্তব্য দেন জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মাশুকুল ইসলাম রাজীব, মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ফতেহ মোহাম্মদ রেজা রিপন, মহানগর জামায়াতে ইসলামীর আমীর মাওলানা আবদুল জব্বার, সাবেক আমীর মাওলানা মঈনুদ্দিন আহমাদ, মহানগর ইসলামী আন্দোলনের সভাপতি মুফতি মাছুম বিল্লাহ, জেলা গণসংহতি আন্দোলনের নির্বাহী সমন্বয়কারী অঞ্জন দাস এবং সাবেক বন্দর উপজেলা চেয়ারম্যান আতাউর রহমান মুকুল। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন আব্দুস সবুর খান সেন্টু।
অনুষ্ঠানে বিএনপি, জামায়াত, ইসলামী আন্দোলন ও গণসংহতি আন্দোলনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী এবং ব্যবসায়ী নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

