ডেইলি নারায়ণগঞ্জ টুয়েন্টিফোর ডটকমঃ দীর্ঘদিনের জটিলতা, অভ্যন্তরীণ বিভাজন ও নানা বিতর্কের পর অবশেষে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির আংশিক কমিটি ঘোষণার জোর গুঞ্জন উঠেছে। দলীয় একাধিক সূত্র জানিয়েছে, চলতি মে মাসের মধ্যেই নতুন কমিটি ঘোষণা করা হতে পারে। স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগেই কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তে এই কমিটি প্রকাশ হতে পারে বলে আলোচনা চলছে।
দীর্ঘ চার বছর ধরে মেয়াদোত্তীর্ণ অবস্থায় থাকা মহানগর বিএনপির কমিটি নিয়ে তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন করে উৎসাহ তৈরি হয়েছে। এবার নেতৃত্বে বড় ধরনের চমক আসতে পারে বলেও শোনা যাচ্ছে। বিশেষ করে অতীতের কোন্দল, গ্রুপিং ও সাংগঠনিক বিশৃঙ্খলার অবসান ঘটিয়ে পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির নেতাদের সামনে আনার চিন্তা করছে কেন্দ্র।
দলীয় সূত্র বলছে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় যেসব নেতা নির্যাতিত হয়েছেন, কারাবরণ করেছেন কিংবা মাঠে সক্রিয় ছিলেন তাদের একটি মূল্যায়ন তালিকা ইতোমধ্যে কেন্দ্রে জমা পড়েছে। সেই তালিকা যাচাই করে ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাদের দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে।
নতুন কমিটিতে জায়গা পেতে ইতোমধ্যে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন বেশ কয়েকজন আলোচিত নেতা। তাদের মধ্যে রয়েছেন মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামাল, সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আতাউর রহমান মুকুল, মহানগর যুবদলের সাবেক আহ্বায়ক মাকসুদুর রহমান খোরশেদ ।
আলোচনায় রয়েছে নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি জাকির খানের নামও।মহনগর বিএনপির রাজনীতিতে প্রভাব রয়েছে এ নেতার। তাই মহানগর বিএনপির কমিটিতে গুরুপূণ পদে দেখা যেতে পারে এ নেতাকে।
বর্তমানে কেন্দ্রের কাছে মহানগর বিএনপির দুটি পৃথক প্যানেল জমা পড়েছে বলে জানা গেছে। একটি তালিকা দিয়েছেন সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু, যুবদল নেতা মনিরুল ইসলাম সজল ও ফতেহ মোহাম্মদ রেজা রিপনের নেতৃত্বে। অন্য তালিকাটি জমা দিয়েছেন আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান ও যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল কাউসার আশা। এছাড়াও আরও কয়েকটি বিকল্প তালিকা প্রস্তুত রয়েছে বলে জানা গেছে।
দলীয় নেতাকর্মীদের প্রত্যাশা, এবার আর ‘পকেট কমিটি’ নয় যোগ্যতা, ত্যাগ ও সাংগঠনিক দক্ষতার ভিত্তিতেই কমিটি গঠন হবে। এমন কমিটি গঠিত হলে দীর্ঘদিনের বিভক্তি কাটিয়ে মহানগর বিএনপি আবারও শক্তিশালী অবস্থানে ফিরতে পারে বলে মনে করছেন তারা।
উল্লেখ্য, ২০২২ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর ৪১ সদস্যবিশিষ্ট নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়। সেই কমিটিতে আহ্বায়ক হন অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান এবং সদস্য সচিব হন অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু। তবে কমিটি ঘোষণার পর থেকেই দলটি দুই ধারায় বিভক্ত হয়ে পড়ে এবং একপর্যায়ে ১৫ জন নেতা পদত্যাগের ঘোষণা দেন।
পরে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে কিছুটা ঐক্য ফিরলেও সাংগঠনিক বিভাজন পুরোপুরি দূর হয়নি। বর্তমানে আবারও নতুন কমিটি ঘিরে সক্রিয় হয়ে উঠেছেন নেতারা।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আসন্ন জাতীয় ও স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির শক্তিশালী, গ্রহণযোগ্য ও ঐক্যবদ্ধ নেতৃত্ব এখন সময়ের দাবি। কেন্দ্র সেই বাস্তবতাই বিবেচনায় নিচ্ছে।

