ডেইলি নারায়ণগঞ্জ টুয়েন্টিফোর ডটকমঃ একসময় নারায়ণগঞ্জে বিএনপির রাজনীতি ছিল প্রাণচাঞ্চল্যে ভরপুর। আন্দোলন-সংগ্রাম, মিছিল-মিটিং ও দলীয় কর্মসূচিতে নেতাকর্মীদের সরব উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। কিন্তু সময়ের ব্যবধানে সেই চিত্র এখন অনেকটাই বদলে গেছে। অদক্ষ নেতৃত্ব, অভ্যন্তরীণ কোন্দল এবং ত্যাগী নেতাকর্মীদের অবমূল্যায়নের অভিযোগে দিন দিন দুর্বল হয়ে পড়ছে স্থানীয় বিএনপি।
বিএনপির সরকার গঠনের পর থেকেই তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ কমিয়ে দিয়েছেন দলের শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা এমন অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন সভা-সমাবেশে আওয়ামী লীগের নেতাদের সঙ্গে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ানোর ঘটনাও নেতাকর্মীদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে। এতে বিগত সময়ে হামলা-মামলার শিকার হয়ে রাজপথে সক্রিয় থাকা বিএনপির নেতাকর্মীদের অনেকেই রাজনীতির মাঠ থেকে সরে যাচ্ছেন বলে জানা গেছে।
তৃণমূল পর্যায়ের একাধিক নেতাকর্মী অভিযোগ করে বলেন, যারা দীর্ঘদিন রাজপথে ছিলেন, মামলা-হামলা সহ্য করেছেন, আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ছিলেন তাদের মূল্যায়ন না করে এখন সুবিধাভোগী ও নব্য নেতাদের প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। এতে দলের প্রকৃত কর্মীরা হতাশ হয়ে পড়েছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নেতা বলেন, “যারা একদিনও হরতাল-পিকেটিংয়ে নামেননি, রাজপথে ছিলেন না, তারাই আজ বড় নেতা হয়ে গেছেন। আর যারা বছরের পর বছর দলকে আগলে রেখেছেন, তারা এখন অবহেলিত।”
আরেক কর্মী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “বিএনপির রাজনীতি করেছি ভালোবেসে। বহু কষ্ট করেছি, মামলা খেয়েছি, তবুও পাশে কাউকে পাইনি। এখন বুকের কষ্ট নিয়ে রাজনীতি থেকে দূরে সরে আছি।”
স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নেতৃত্বে সমন্বয়ের অভাব, যোগ্যদের মূল্যায়ন না করা এবং ব্যক্তিকেন্দ্রিক রাজনীতির কারণেই নারায়ণগঞ্জ বিএনপিতে দলাদলি বাড়ছে। যার নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে সাংগঠনিক কার্যক্রমেও।
তাদের মতে, বর্তমান রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় দলকে শক্তিশালী করতে হলে ত্যাগী নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন, অভ্যন্তরীণ বিরোধ নিরসন এবং দক্ষ নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা এখন সময়ের দাবি।
নেতাকর্মীদের প্রত্যাশা, কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব দ্রুত বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে এবং নারায়ণগঞ্জ বিএনপিকে আবারও ঐক্যবদ্ধ ও শক্তিশালী সংগঠনে পরিণত করবে।

