ডেইলি নারায়ণগঞ্জ টুয়েন্টিফোর ডটকমঃ নারায়ণগঞ্জের ইতিহাসে সবচেয়ে আলোচিত ও হৃদয়বিদারক ঘটনা গুলোর একটি হলো সাত খুন মামলা। ২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ থেকে অপহরণের পর ৩০ এপ্রিল শীতলক্ষ্যা নদী থেকে একে একে সাতজনের মরদেহ উদ্ধার হলে সারাদেশে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড দেশের বিচারব্যবস্থা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং মানবাধিকারের প্রশ্নে বড় ধরনের আলোচনার জন্ম দেয়।
ঘটনার পর নিহতদের পরিবার যখন শোকাহত ও দিশেহারা, তখন তাদের পাশে দাঁড়িয়ে ন্যায়বিচারের দাবিতে সোচ্চার হন কয়েকজন আইনজীবী ও মানবাধিকারকর্মী। তাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন নারায়ণগঞ্জ আইনজীবী সিমিতির সভাপতি এডভোকেট শাখাওয়াত হোসেন। শুরু থেকেই তিনি মামলার বিচার প্রক্রিয়া স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও দ্রুত সম্পন্ন করার দাবিতে দৃঢ় অবস্থান নেন।
সাত খুনের ঘটনায় প্রধান ভুক্তভোগীদের একজন ছিলেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলাম। তার সঙ্গে আরও ছয়জনকে অপহরণ করে হত্যা করা হয়। ঘটনার পর দেশজুড়ে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়লে মামলাটি দ্রুত আলোচনায় আসে। সেই সময় স্থানীয় আদালত প্রাঙ্গণ থেকে শুরু করে বিভিন্ন মানববন্ধন, প্রতিবাদ কর্মসূচি ও আইনি পরামর্শে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন এডভোকেট শাখাওয়াত হোসেন।
আইনজীবী মহলে তিনি বারবার বলেন, এই হত্যাকাণ্ড শুধু সাতটি পরিবারের নয়, পুরো জাতির বিবেককে নাড়া দিয়েছে। অপরাধীরা যত প্রভাবশালীই হোক না কেন, তাদের আইনের আওতায় আনতে হবে। তার এই স্পষ্ট বক্তব্য সাধারণ মানুষের মাঝে আস্থা তৈরি করে।
মামলার তদন্ত ও বিচার চলাকালে নানা চাপ, প্রভাব এবং ভয়ভীতির অভিযোগ উঠলেও এডভোকেট শাখাওয়াত হোসেন ন্যায় বিচারের প্রশ্নে আপসহীন অবস্থান বজায় রাখেন। তিনি বিভিন্ন সময়ে গণমাধ্যমে বক্তব্য দিয়ে বলেন, বিচারহীনতার সংস্কৃতি বন্ধ করতে হলে সাত খুন মামলার দৃষ্টান্তমূলক রায় কার্যকর করা জরুরি।
২০১৭ সালের ১৬ জানুয়ারি নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালত মামলার রায়ে ২৬ জনকে মৃত্যুদণ্ড ও ৯ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেন। পরে হাইকোর্টও অধিকাংশ দণ্ড বহাল রাখেন। এই রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে এডভোকেট শাখাওয়াত হোসেন বলেন, এটি শুধু একটি মামলার রায় নয়, বরং ন্যায়বিচারের প্রতি মানুষের বিশ্বাস পুনঃপ্রতিষ্ঠার একটি বড় পদক্ষেপ।
সচেতন মহলের মতে, সাত খুন মামলায় যারা শুরু থেকে সাহসী কণ্ঠে সত্য ও ন্যায়বিচারের পক্ষে দাঁড়িয়েছিলেন, এডভোকেট শাখাওয়াত হোসেন তাদের অন্যতম। তার দৃঢ় অবস্থান ও সাহসী ভূমিকা নারায়ণগঞ্জবাসীর কাছে আজও স্মরণীয় হয়ে আছে।

