ডেইলি নারায়ণগঞ্জ টুয়েন্টিফোর ডটকমঃ দরজায় কড়া নাড়ছে ঈদ। ঈদ উপলক্ষে সব শ্রেণিপেশার মানুষের মধ্যেই চলছে প্রস্তুতি। ঈদ এলেই মানুষের চাঞ্চল্য সবচেয়ে বেশি চোখে পড়ে পোশাকের বিপণি বিতানগুলোতে। ঈদের মাসখানেক আগে থেকেই দোকানে দোকানে ভিড় পড়ে যায়। নারায়ণগঞ্জেও এবারও তার ব্যতিক্রম নেই।
তবে আর্থিক সামর্থ্যের চরম বাস্তবতা ফুটে ওঠে এই সময়ে। জমকালো শপিং মল, সাধারণ মার্কেটের দোকান আর ফুটপাতের পোশাকের দোকান তিন ধরনের বিপণি বিতানে দৃষ্টি দিলেই স্পষ্ট হয়ে যায় ধনী-গরিবের পার্থক্য কে কতটা বিত্তশালী।
ঈদের কেনাকাটায় এবারও ধনীদের পছন্দ অভিজাত শপিং মল ও নামি-দামি ব্র্যান্ডগুলো। মধ্যবিত্তদের মধ্যে রুচিশীল কেউ কেউ সেসব জায়গা থেকে কেনাকাটা করে থাকেন বটে, তবে বেশিরভাগেরই গন্তব্য সুপার মার্কেটের পোশাকের দোকান। আর দরিদ্র শ্রেণির ভরসা সেখানে ফুটপাতের দোকানগুলোতেই। সামর্থ্যের মধ্যে নিজেদের পছন্দের কাপড়-চোপড়, গয়না, জুতা, স্যান্ডেল ও অন্য প্রসাধনীসহ অন্যান্য পণ্য কিনতে ভিড় করছেন ফুটপাত ও খোলা জায়গায় বসানো অস্থায়ী দোকানগুলোতে।
ঈদের আগে ক্রেতা আকৃষ্ট করতে হরেক রকম রঙ-ঢঙের বাতি আর বাহারি রকমের শৈলীতে আকর্ষণীয় করে সাজানো হয়েছে শহরের চাষাড়া থেকে শুরু করে আলমাস পয়েন্ট, টপ টেন, মাক টাওয়ার, ডি আইটি মার্কেট, এবং সড়কের দুই পাশে নামিদামি ব্র্যান্ডের শোরুমগুলো। রমজানের শুরু থেকেই সেসব শোরুমে ক্রেতার ভিড় বাড়লেও ১২ রমজানের পর থেকে বেচাকেনার ধুম পড়ে গেছে। ঈদের আগমুহূর্তে পা ফেলার জায়গা নেই ফুটপাতসহ অন্যান্য পোশাকের দোকানগুলোতেও।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, দুপুরের থেকেই ফুটপাতের অস্থায়ী দোকানগুলোতে জামাকাপড়, জুতা, গেঞ্জি, প্যান্টসহ বিভিন্ন পণ্যের সমাহার সাজিয়ে বসেছেন বিক্রেতারা। ‘এক্সপোর্টের শার্ট লন, মাত্র আড়াইশ টাকা’, ‘পাঞ্জাবি লন, মাত্র তিনশ টাকা’, ‘প্যান্ট লন, গেঞ্জি লন’, ‘দেইখ্যা লন, বাইচ্ছা লন’, ‘এক দাম, এক রেট’বিক্রেতাদের এমন হাঁকডাকে জমে উঠেছে চাষাড়া থেকে ডিআইটি পর্যন্ত এলাকার ফুটপাতের ঈদ বাজার।
বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে ক্রেতাদের ভিড়ও। দুপুর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত অভিজাত বিপণি বিতানগুলোতে বিত্তবানদের কেনাকাটায় ব্যস্ত থাকতে দেখা যায়। নিম্নবিত্তরা এসব বিতানের আলোকসজ্জা দেখেই চোখ জুড়ান, সেখান থেকে কেনাকাটার সামর্থ্য তাদের বেশিরভাগেরই নেই।
ঈদের বাজারে সব ধরনের দোকানেই বিক্রি হচ্ছে নারীদের জন্য বিভিন্ন ডিজাইনের শাড়ি, সালওয়ার-কামিজ; আর পুরুষদের জন্য ঈদে বাঙালির ঐতিহ্য পাঞ্জাবি-পায়জামা ছাড়াও শার্ট, টি-শার্ট ও প্যান্টের পসরা সাজানো হয়েছে। পাশাপাশি শিশুদের জন্য রঙিন জামাকাপড়, খেলনা ও ঈদ স্পেশাল গিফট আইটেমও বিক্রি হচ্ছে।
এ সময় চোখে পড়ে বিশেষ একটি জিনিস, অর্থাভাব থাকলেও ঈদের বাজারে এসে তার সবটাই বিদায় করে দিয়েছেন নিম্নবিত্তরা। সাধ্যের সবটুকু দিয়ে সাধের ঈদ করার চেষ্টায় মুখভরা হাসিতে সন্তানদের জামাকাপড় কিনে দিচ্ছেন তারা।
মেয়ের জন্য জামা-জুতা কিনতে এসেছিলেন আছিয়া খাতুন দেশের বাড়ী ফেনী সদর উপজেলার ধর্মপুর গ্রামের কাজের কাজের জন্য থাকেন নারায়ণগঞ্জে সে জানালেন, মেয়ে বায়না ধরেছে, তাকে রাখি জামা কিনে দিতে হবে।
রহিমা খাতুন নামের এক ক্রেতা বলেন, ‘আঙগো (আমাদের) যা তৌফিক আছে, হিয়ানদি (তা দিয়েই) হোলা-মাইয়োগো (ছেলেমেয়েদের) মুখের হাসি দেইখতাম চাই।’
এই নারী জানান, মেয়ের জন্য ৩ শ’ টাকায় একটা জামা এবং ছেলের জন্য আড়াই শ’ টাকায় একটা শার্ট কিনেছেন তিনি। এখন বাকি জুতা। পাশেই এক জুতার দোকানে গিয়ে দেখা যায়, সেখানেও উপচে পড়া ভিড়।
শফিকুল ইসলাম নামের আরেক ক্রেতা জানান, ফুটপাতে দামে কিছুটা সাশ্রয়ী এবং পণ্যের মানও বেশ ভালো। সেজন্য ফুটপাত থেকেই পাঞ্জাবিসহ কয়েকটি পোশাক কিনেছেন তিনি। দামাদামি করে নিতে পারলে কম দামেই ভালো পোশাক নেওয়া যায়।
তিনি বলেন, ‘মার্কেটগুলোতে জিনিসপত্রের দাম খুব বেশি। যা রোজগার করি, তা দিয়ে ওসব দোকান থেকে জিনিসপত্র কেনার সামর্থ আমার নেই। তাই দিঘীর পাড়ের এ সস্তার বাজারেই আমাদের মতো মানুষের স্বস্তি।’
মাত্র ১ হাজার টাকা দিয়ে এই বাজার থেকে চার ছেলেমেয়ের জন্য জুতা কিনেছেন তিনি। মার্কেট থেকে তা কোনোভাবেই সম্ভব ছিল না বলে জানান এই পিতা।
তারা জানান, ঈদ উপলক্ষে চশমা, জুতা, শার্ট ও মানিব্যাগ কিনবেন। ‘এখানে সস্তায় জিনিসপত্র পাওয়া যায়, তাই ঈদের শপিং করতে এসেছি’, বলেন রাকিব।

