পাকিস্তানের করাচিতে অবস্থিত মার্কিন কনস্যুলেটের সামনে বিক্ষোভ চলাকালীন মার্কিন মেরিন সদস্যরা গুলি চালিয়েছে বলে জানিয়েছে বার্তাসংস্থা রয়টার্স। দুইজন মার্কিন কর্মকর্তার বরাতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কনস্যুলেট কম্পাউন্ডের বাইরের দেয়াল ভেঙে ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা হলে এই গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। তবে মেরিনদের গুলিতে কেউ আহত বা নিহত হয়েছেন কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। এছাড়া কম্পাউন্ডের নিরাপত্তায় নিয়োজিত অন্যান্য বাহিনী যেমন বেসরকারি নিরাপত্তারক্ষী বা স্থানীয় পুলিশও গুলি চালিয়েছে কি না, তা স্পষ্ট নয়।
সংঘর্ষে অন্তত ১০ জন নিহত ও ৬০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। সিন্ধ প্রদেশের মুখপাত্র সুখদেব আসারদাস হেমনানি জানান, নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা গুলি চালিয়েছে, তবে কোন বাহিনী তা চালিয়েছে তা নির্দিষ্ট করা হয়নি।
ঘটনার পেছনে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি হত্যার প্রতিবাদে পাকিস্তানজুড়ে সহিংস বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ার প্রেক্ষাপট রয়েছে। গত রোববার সংঘর্ষে অন্তত ২৪ জন নিহত হয়েছেন। উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকার সেনাবাহিনী মোতায়েন করেছে এবং কয়েকটি এলাকায় তিন দিনের কারফিউ জারি করা হয়েছে।
উত্তরাঞ্চলের Gilgit-Baltistan–এর গিলগিত, স্কারদু ও শিগার জেলায়ও কারফিউ জারি করা হয়েছে। এখানে সংঘর্ষে অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন। উদ্ধারকর্মীদের বরাতে জানা যায়, গিলগিতে সাতজন, স্কারদুতে ছয়জন নিহত হয়েছেন। এছাড়া রাজধানী ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের দিকে যাওয়ার পথে আরও দুই বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস ও বিভিন্ন কনস্যুলেটের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং দেশজুড়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক রয়েছে। ঘটনার তদন্ত চলছে এবং হতাহতের সঠিক কারণ ও দায় নির্ধারণের চেষ্টা করা হচ্ছে।

