গাজীপুরের মকুল নীটওয়্যার লিঃ কারখানা স্থায়ীভাবে বন্ধ ঘোষণা
ডেইলি নারায়ণগঞ্জ টুয়েন্টিফোর ডটকমঃ গাজীপুরে স্থায়ীভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে মুকুল নীটওয়্যার লিমিটেড কারখানা। সাম্প্রতিক সময়ে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা, ক্রয়াদেশ (অর্ডার) সংকট, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি এবং আর্থিক সক্ষমতার মারাত্মক ঘাটতির কারণে কর্তৃপক্ষ কারখানাটি বন্ধ ঘোষণা করে। বুধবার থেকে কারখানাটি স্থায়ীভাবে বন্ধের ওইসব কারণ উল্লেখ করে কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের উপ-মহা পরিচালক বরাবরে লিখিত আবেদন করেন কারখানার পরিচালক মইনুল ইসলাম মকুল।
পুলিশ, শ্রমিক ও স্থানীয়রা জানান, গাজীপুরের কোনাবাড়ী থানাধীন আমবাগ সড়কের নীল নগর এলাকাস্থিত মুকুল নীটওয়্যার লিমিটেড কারখানাটি বুধবার থেকে কারখানাটি স্থায়ীভাবে বন্ধ ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ। সকালে কাজে যোগ দিতে এসে শ্রমিকরা তালাবদ্ধ কারখানার গেইটে ওই নোটিশ দেখতে পেয়ে বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠে। এসময় তারা ফটকের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে শ্রমিকদেও বুঝিয়ে শান্ত করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
কারখানার পরিচালক মইনুল ইসলাম মকুল লিখিত আবেদনে উল্লেখ করেন, দীর্ঘদিন যাবৎ প্রতিষ্ঠানটি আন্তর্জাতিক বাজারে পোশাক রপ্তানির সঙ্গে জড়িত থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা, ক্রয়াদেশ (অর্ডার) সংকট, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি এবং আর্থিক সক্ষমতার মারাত্মক ঘাটতির কারণে কারখানার স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালনা করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। এসব কারণে কারখানাটি স্থায়ীভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। উক্ত পরিস্থিতিতে প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন কার্যক্রম চালু রাখা সম্ভব নয় বিধায় বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬ (সংশোধিত) এর ধারা ২৮ ক এবং বাংলাদেশ শ্রম বিধি ২০১৫ এর বিধি ৩২ অনুসারে কারখানাটি (১৭ ডিসেম্বর) বুধবার থেকে স্থায়ীভাবে বন্ধ ঘোষণা করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট আইন ও বিধি অনুযায়ী আলোচনা সাপেক্ষে শ্রমিক-কর্মচারীর পাওনা পরিশোধের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। অতএব, উপরোক্ত বিষয়াদি বিবেচনাপূর্বক বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬ এর ধারা ২৮ ক এবং বাংলাদেশ শ্রম বিধি ২০১৫ এর বিধি ৩২ মোতাবেক মুকুল নীটওয়্যার লিমিটেড কারখানা স্থায়ীভাবে বন্ধ ঘোষণার বিষয়ে আপনার সদয় অবগতির জন্য জানানো হচ্ছে
গাজীপুর শিল্প পুলিশ-২ এর পরিদর্শক (কোনাবাড়ী জোন) মোর্শেদ জামান জানান, মালিক পক্ষ শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি সমাধান করবে বলে জানিয়েছেন।
কারখানার কর্মী সাগর আলী, জুয়েল রানা, আনোয়ারা বেগম ও রেশমা আক্তারসহ কয়েক শ্রমিক বলেন, কর্তৃপক্ষ কারখানা চালাতে না পারলে আমাদের কিছু করার নাই। শ্রম আইন অনুযায়ী আমাদের সকল পাওয়ানা পরিশোধ করে দেওয়া হোক। আমরা ১৫ তারিখে বিকেল পর্যন্ত কাজ করেছি। মঙ্গলবার কারখানা বন্ধ ছিলো। বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) সকালে কারখানায় কাজে যোগ দিতে এসে দেখি কর্তৃপক্ষ কারখানা স্থায়ীভাবে বন্ধের নোটিশ টানিয়ে দিয়েছে। কারখানা বন্ধ করে দেবে আমাদেরকে কিছুই জানায়নি কর্তৃপক্ষ। হঠাৎ মালিকপক্ষ আমাদের পওনা পরিশোধ না করে কারখানা বন্ধ করায় আমরা অনেক বিপদে পড়ে গেছি। এখন আমরা কোথায় যাবো। মালিক তার কারখানা চালাবেনা, বন্ধ করে দিয়েছে, এতে আমাদের সমস্যা হলেও বলবনা কারখানা চালানোর জন্য। আমাদের সকল পাওনা মালিক পরিশোধ করে দেউক।

