নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে অবস্থিত শতবর্ষী লক্ষ্মী নারায়ণ কটন মিলস সার্বজনীন দুর্গামন্দির পরিদর্শন করেছেন সদর উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এস এম ফয়েজ উদ্দিন। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বিকেলে মন্দিরে গিয়ে তিনি পূজা উদ্যাপন কমিটির নেতৃবৃন্দের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাঁদের বিভিন্ন সমস্যার কথা শোনেন।
পরিদর্শনকালে মন্দিরে পূজা-অর্চনা পরিচালনায় বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতা ও দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলো নিয়ে আলোচনা হয়। এ সময় মন্দির কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট শিল্পপ্রতিষ্ঠানের কারণে নির্বিঘ্নে ধর্মীয় কার্যক্রম পরিচালনা করতে না পারার বিষয়টি তুলে ধরেন।
লক্ষ্মী নারায়ণ কটন মিলস সার্বজনীন দুর্গামন্দির পূজা উদ্যাপন পরিষদের সভাপতি মিন্টু চন্দ্র দাস বলেন, মন্দিরটি শতবর্ষের ঐতিহ্য বহন করছে। তবে পাশে শিল্পপ্রতিষ্ঠান থাকায় এখানে সুষ্ঠুভাবে পূজা-অর্চনা পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়েছে। এ পরিস্থিতিতে চলতি বছর দুর্গাপ্রতিমা বিসর্জন না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তাঁরা।
তিনি আরও জানান, সমস্যার স্থায়ী সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে একাধিকবার আলোচনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নিট কনসার্নের মালিকপক্ষও আলোচনায় বসতে আগ্রহ দেখিয়েছে। তবে সরকারের পক্ষ থেকে কার্যকর উদ্যোগের অভাব রয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। মন্দিরের স্বাভাবিক ধর্মীয় কার্যক্রম নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা কামনা করেন এই নেতা।
এ সময় উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এস এম ফয়েজ উদ্দিন সমস্যাটি সমাধানের আশ্বাস দেন। দ্রুত সময়ের মধ্যে বিষয়টির সুরাহা হবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।
পরিদর্শনকালে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্যের কন্যা শামসুন্নাহার বাঁধন মন্দিরে গীতা ও বস্ত্র বিতরণ করেন। পরে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, “আমি আপনাদের মেয়ের মতো। আমি এসেছি আপনাদের খোঁজখবর নিতে। যদিও এই এলাকা আমাদের আওতাধীন নয়, তারপরও কোনো প্রয়োজন হলে আমার পক্ষ থেকে যথাসাধ্য চেষ্টা করব, ইনশাআল্লাহ।”
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সনাতন সংঘের সভাপতি সুমন লাল, সাধারণ সম্পাদক অজিত দাস, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মিলন বিশ্বাস, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের স্থায়ী সদস্য শোভন কমল এবং বাংলাদেশ সনাতন আইনজীবী পরিষদের আহ্বায়ক তরুণ লাল বেগী।
এ ছাড়া মন্দিরের সাধারণ সম্পাদক বকুল বিশ্বাস, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ১০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী আরমান হোসেনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
শতবর্ষী এই মন্দিরের সমস্যার স্থায়ী সমাধান এবং নির্বিঘ্নে ধর্মীয় কার্যক্রম পরিচালনার পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রশাসনের আশ্বাসের বাস্তবায়নের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীরা।

