নারায়ণগঞ্জ শহরের প্রাণকেন্দ্র চাষাঢ়ার খাজা সুপার মার্কেট। প্রতিদিন যেখানে হাজারো মানুষের চলাচল, সেখানেই মার্কেটের একটি অংশে দীর্ঘদিন ধরে জুয়ার আসর চলার অভিযোগ উঠেছে। রোববার রাতে পুলিশের অভিযানে সেই কথিত জুয়ার আসর থেকে ২৮ জনকে আটকের পর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
অভিযানে নগদ টাকা ও জুয়া খেলার সরঞ্জাম উদ্ধারের করেছে পুলিশ। তবে আটকের ঘটনায় সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এখন একটাই এতদিন ধরে প্রকাশ্য একটি মার্কেটে জুয়ার বোর্ড চলল কীভাবে?
স্থানীয়দের অভিযোগ, এটি কোনো একদিনের বিচ্ছিন্ন জুয়ার আসর ছিল না। নিয়মিতভাবে সেখানে লোকজনের যাতায়াত ছিল এবং নির্দিষ্ট একটি জায়গাকে কেন্দ্র করে জুয়ার আসর পরিচালিত হতো বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় পর্যায়ে আরও অভিযোগ রয়েছে, রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী কিছু ব্যক্তির ঘনিষ্ঠদের ছত্রছায়ায় ওই আসর পরিচালিত হতো। এ নিয়ে মহানগর বিএনপি ও স্বেচ্ছাসেবক দলের কয়েকজন নেতার নামও স্থানীয়দের আলোচনায় এসেছে।
স্থানীয়দের প্রশ্ন, সাধারণ কোনো ব্যক্তি যদি বাণিজ্যিক মার্কেটের ভেতরে নিয়মিত জুয়ার আসর চালান, তাহলে এতদিন সেটি কীভাবে টিকে থাকে? কারা জায়গা ব্যবহারের সুযোগ দিয়েছে, কারা নিয়মিত আসা-যাওয়া করতেন, জুয়ার টাকা কোথায় যেত এবং কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তি বা গোষ্ঠী তাদের সুরক্ষা দিত কি না এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে তদন্ত প্রয়োজন।
অভিযানে যারা জুয়া খেলার সময় আটক হয়েছেন, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। কিন্তু স্থানীয়দের প্রশ্ন জুয়ার বোর্ড পরিচালনা করত কারা?
কারণ জুয়ার আসরে উপস্থিত ব্যক্তিরা এক বিষয়, আর দীর্ঘদিন ধরে একটি জুয়ার বোর্ড পরিচালনা করা আরেক বিষয়। যদি সত্যিই নিয়মিতভাবে ওই আসর পরিচালিত হয়ে থাকে, তাহলে এর আয়-ব্যয়, পরিচালনাকারী এবং পৃষ্ঠপোষকদের শনাক্ত করাও জরুরি।
চাষাঢ়া নারায়ণগঞ্জ শহরের অন্যতম ব্যস্ত এলাকা। এরকম একটি স্থানে কোনো স্থাপনার ভেতরে নিয়মিত জুয়ার আসর চলার অভিযোগ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে। স্থানীয়দের কেউ কেউ বলছেন, অপরাধ নিয়ন্ত্রণে শুধু অভিযান চালালেই হবে না; কোন জায়গায় কারা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে, তাদের সঙ্গে কার যোগাযোগ রয়েছে এবং কীভাবে তারা জায়গা ব্যবহার করছে এসব বিষয়েও নজরদারি প্রয়োজন।
অভিযোগের সূত্র ধরে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলেও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে মহানগর বিএনপি ও স্বেচ্ছাসেবক দলের কয়েকজন নেতার ঘনিষ্ঠদের নাম আলোচনায় আসায় বিষয়টি রাজনৈতিকভাবেও সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে।
খাজা মার্কেটে পুলিশের অভিযান নারায়ণগঞ্জে জুয়া ও অন্যান্য অপরাধের বিরুদ্ধে চলমান অভিযানের ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে এই অভিযান কতটা কার্যকর হবে, তা নির্ভর করবে শুধু আটকের সংখ্যার ওপর নয়; বরং জুয়ার আসরের নেপথ্যে থাকা ব্যক্তিদের শনাক্ত করা এবং ভবিষ্যতে একই জায়গায় এমন কর্মকাণ্ড বন্ধ রাখা যায় কি না, তার ওপর।

