দীর্ঘ প্রায় আট ঘণ্টার টানা অনুসন্ধানের পর শীতলক্ষ্যা নদী থেকে নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের সদস্য ও প্রশিক্ষিত ডুবুরি সাদিকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে ঘটনাস্থলের অদূরে কেরোসিন ঘাট এলাকা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করে নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক আব্দুল্লাহ আল আরেফিন জানান, উদ্ধারকারী দল সন্ধ্যায় কেরোসিন ঘাট এলাকায় অভিযান চালিয়ে সাদিকের মরদেহ উদ্ধার করতে সক্ষম হয়।
এর আগে বৃহস্পতিবার সকাল ১১টার দিকে নগরীর নিতাইগঞ্জে ফায়ার সার্ভিসের নিজস্ব জেটির সামনে জমে থাকা কচুরিপানা অপসারণের কাজ চলাকালে দুর্ঘটনার শিকার হন তিনি। সহকর্মীদের সঙ্গে একটি স্পিডবোটে দায়িত্ব পালন করার সময় ঢেউয়ের কারণে ভারসাম্য হারিয়ে নদীতে পড়ে যান সাদিক। এরপর থেকেই তিনি নিখোঁজ ছিলেন।
নিখোঁজ হওয়ার পরপরই ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল উদ্ধার অভিযান শুরু করে। পরে কোস্টগার্ডও অভিযানে যোগ দেয়। কয়েক ঘণ্টার চেষ্টার পর অবশেষে সন্ধ্যায় তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
উপসহকারী পরিচালক আব্দুল্লাহ আল আরেফিন জানান, প্রত্যক্ষদর্শী দুই সহকর্মীর ভাষ্য অনুযায়ী, নদীতে পড়ে যাওয়ার সময় সাদিকের মাথায় আঘাত লেগে থাকতে পারে। তিনি বলেন, সাদিক একজন দক্ষ ও প্রশিক্ষিত ডুবুরি ছিলেন। সাধারণ পরিস্থিতিতে তার পক্ষে পানিতে পড়ে নিখোঁজ হয়ে যাওয়া অস্বাভাবিক। তাই প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, মাথায় আঘাত পাওয়ার কারণেই তিনি আর নিজেকে রক্ষা করতে পারেননি।
২৬ বছর বয়সী সাদিক নারায়ণগঞ্জ নদী ফায়ার স্টেশনে কর্মরত ছিলেন এবং নিখোঁজ বা পানিতে ডুবে যাওয়া ব্যক্তিদের উদ্ধারে বিশেষ দক্ষতা অর্জন করেছিলেন। সম্প্রতি সিদ্ধিরগঞ্জের একটি লেকে গোসল করতে নেমে নিখোঁজ হওয়া তিনজনের মরদেহ উদ্ধারের অভিযানেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ উপজেলার কুমরাকান্দি গ্রামের বাসিন্দা সাদিক আশরাফ উদ্দিনের ছেলে। দায়িত্বনিষ্ঠা ও সাহসিকতার স্বীকৃতি হিসেবে গত বছর তিনি ‘সেরা ডুবুরি’ ক্যাটাগরিতে ফায়ার সার্ভিস পদক লাভ করেছিলেন।
তার আকস্মিক মৃত্যুতে সহকর্মীদের মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। জীবন বাঁচানোর দায়িত্ব পালন করতে গিয়েই প্রাণ হারানো এই সাহসী ডুবুরির মৃত্যুতে ফায়ার সার্ভিস পরিবারসহ স্থানীয়দের মধ্যেও শোকের আবহ বিরাজ করছে।

