চাঁদাবাজির অভিযোগে নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ন আহ্বায়ক খায়রুল ইসলাম সজীবকে আটক এবং পরবর্তীতে দল থেকে বহিষ্কারের ঘটনায় নারায়ণগঞ্জজুড়ে বিভিন্ন মহলে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে দীর্ঘদিন ধরে চাঁদাবাজি ও নানা অনিয়মের অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তি ও চক্রগুলোর মধ্যে এক ধরনের আতংক বিরাজ করছে বলে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা চলছে।
রোববার (২১ জুন) রাতে জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির পক্ষ থেকে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দলের নীতি, আদর্শ, শৃঙ্খলা ও সাংগঠনিক স্বার্থবিরোধী বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে খায়রুল ইসলাম সজীবকে প্রাথমিক সদস্য পদসহ দলের সকল সাংগঠনিক পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হয়েছে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিভিন্ন অনিয়ম ও বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততার সুস্পষ্ট অভিযোগের প্রেক্ষিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তার কোনো কর্মকাণ্ডের দায়-দায়িত্ব দল বহন করবে না এবং নেতাকর্মীদের তার সঙ্গে সাংগঠনিক সম্পর্ক না রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এর আগে রাজধানীর বারিধারা এলাকা থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তাকে আটক করে। পরে অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) কার্যালয়ে নেওয়া হয়। তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অভিযোগে তদন্ত চলছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সাম্প্রতিক এ ঘটনায় একটি বার্তা স্পষ্ট হয়েছে যে, রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে অনিয়ম, প্রভাব বিস্তার কিংবা চাঁদাবাজির অভিযোগে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ও সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে কঠোর অবস্থান দেখা যাচ্ছে। ফলে নানা অভিযোগে আলোচিত ব্যক্তি ও চক্রগুলোর মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।
নারায়ণগঞ্জে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়ায় চাঁদাবাজি ও প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ করে আসছিলেন। সাম্প্রতিক এই ঘটনায় এমন কর্মকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে বলে জনমনে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।

