নারায়ণগঞ্জের বন্দরে ময়না ক্লিনিকে জন্ম নেওয়ার পর এক নবজাতকের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা ক্লিনিকের মালিক চিকিৎসক ময়না বেগমের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ।
শিশুটির বাবা মো. হোসেন রয়েল (২৮) জানান, শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিকে প্রসবের জন্য তাঁর স্ত্রীকে বন্দরের আমিন আবাসিক এলাকার স্কুলঘাটসংলগ্ন ময়না ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। একই দিন দুপুর ১২টা ১৫ মিনিটে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তাঁদের ছেলে জন্ম নেয়।
রয়েলের অভিযোগ, জন্মের পর থেকেই নবজাতকটি কান্নাকাটি করছিল। বিষয়টি চিকিৎসক ময়না বেগমকে জানানো হলে তিনি শিশুর কোনো সমস্যা নেই বলে আশ্বস্ত করেন। তবে শনিবার সকালে শিশুটির কান্না বেড়ে গেলে আবারও চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করেন তাঁরা। এ সময় চিকিৎসক ক্লিনিকে এসে শিশুটিকে পরীক্ষা করেননি বলে অভিযোগ করেন রয়েল। নার্সদের মাধ্যমে চিকিৎসককে ডাকার চেষ্টা করেও সাড়া পাননি বলে দাবি তাঁর।
শিশুটির শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসক ময়না বেগমের পরামর্শে ঝাউতলা এলাকার এক চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যান বলে জানান রয়েল। সেখানে চিকিৎসককে না পেয়ে পুনরায় যোগাযোগ করলে প্রথমে ময়না বেগমের ব্যক্তিগত চেম্বারে এবং পরে ফরাজীকান্দা এলাকার আরেক চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। তবে বিভিন্ন স্থানে গিয়েও শিশুটির প্রয়োজনীয় চিকিৎসা করাতে পারেননি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
পরে নবজাতককে আবার ময়না ক্লিনিকে ফিরিয়ে আনা হয়। রয়েলের ভাষ্য অনুযায়ী, এ সময় ময়না বেগম ফোনে ক্লিনিকের নার্সদের শিশুটিকে অক্সিজেন দেওয়ার নির্দেশ দেন। অক্সিজেন দেওয়ার পর শিশুটির কান্না থেমে গেলে উদ্বিগ্ন হয়ে চিকিৎসককে বিষয়টি জানান তাঁরা। তখন নবজাতককে দ্রুত ঢাকার মাতুয়াইল হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।
রয়েল জানান, শনিবার দুপুর ১টার দিকে তাঁরা মাতুয়াইল হাসপাতালে পৌঁছালে সেখানকার চিকিৎসক নবজাতককে মৃত ঘোষণা করেন। চিকিৎসকের বরাত দিয়ে তিনি দাবি করেন, হাসপাতালে পৌঁছানোর প্রায় এক ঘণ্টা আগেই শিশুটির মৃত্যু হয়েছিল।
ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের বক্তব্য
অভিযোগের বিষয়ে ময়না ক্লিনিকের প্রতিনিধি কাউছার বলেন, শিশুটি মারা যাওয়ার আগে সুস্থ ও স্বাভাবিক ছিল। তাঁদের পক্ষ থেকে যথেষ্ট চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। পরিবারের সদস্যদের মায়ের বুকের দুধ ছাড়া নবজাতককে অন্য কোনো খাবার না দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল বলে জানান কাউছার। শিশুটির মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চলছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
তদন্ত কমিটি গঠন
বন্দর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. আলাউল কবির দিপু জানান, নারায়ণগঞ্জের সিভিল সার্জনের নির্দেশে এ ঘটনায় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কিছুটা অবহেলা থাকতে পারে বলে মনে করছেন তিনি। তবে ঘটনার প্রকৃত কারণ তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
এদিকে বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জামাল উদ্দিন বলেন, তাঁরা ঘটনাটি সম্পর্কে অবগত হয়েছেন। লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
নবজাতকের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং চিকিৎসায় কোনো ধরনের অবহেলা ছিল কি না, তা এখন তদন্তের বিষয়।

