প্রিমিয়ার লিগে জয়ের খরা কাটছেই না টটেনহ্যামের। তবে ১০ জনের দল নিয়েও ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের মাঠে শেষ মুহূর্তে গোল করে ১-১ ব্যবধানে ড্র করেছে রবার্তো দি জারবির দল। এই ড্রয়ে পয়েন্ট তালিকার তলানি থেকে উঠে এলেও অবনমন অঞ্চলের বিপদ কাটেনি তাদের।
ম্যাচে বেশির ভাগ সময় দাপট দেখিয়েছে টটেনহ্যাম। কিন্তু গোলের সুযোগ কাজে লাগাতে না পারার খেসারত দিতে হচ্ছিল তাদের। বিশেষ করে প্রথমার্ধে একাধিক সুযোগ নষ্ট করেন ডমিনিক সোলাঙ্কে। তার সুযোগগুলো কাজে লাগাতে পারলে বিরতির আগেই বড় ব্যবধানে এগিয়ে যেতে পারতো সফরকারীরা।
উল্টো ম্যাচের ৭৩ মিনিটে গোল করে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডকে এগিয়ে দেন ব্রায়ান এমবেউমো। বক্সের মধ্যে মাতেউস কুনহার সঙ্গে বল দেওয়া-নেওয়ার পর দারুণ দক্ষতায় ঘুরে দাঁড়িয়ে গোলরক্ষক আন্তোনিন কিনস্কিকে পরাস্ত করেন তিনি।
গোল হজমের পর টটেনহ্যামের পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে যায়। পাঁচ মিনিট পর লুক শ-কে লক্ষ্য করে মাথা দিয়ে আঘাত করার চেষ্টা করেন রদ্রিগো বেনতানকুর। সেই ঘটনায় সরাসরি লাল কার্ড দেখেন এই মিডফিল্ডার। উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে দুই দলের ডাগআউটের সদস্যদের মধ্যেও বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়।
১০ জনের টটেনহ্যামের জন্য তখন ম্যাচে ফেরা প্রায় অসম্ভব মনে হচ্ছিল। কিন্তু হার মানেনি সফরকারীরা। যোগ করা সময়ে সোলাঙ্কের হেডে সমতাসূচক গোল পায় তারা। তার হেড ঠেকানোর কোনো চেষ্টা না করেই দাঁড়িয়ে থাকেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের গোলরক্ষক সেন লামেনস। তাতেই শেষ পর্যন্ত ১-১ সমতায় ম্যাচ শেষ হয়।
এই ড্রয়ে স্বস্তি মিললেও টটেনহ্যামের দুর্দশা কাটেনি। মে মাসের পর থেকে প্রিমিয়ার লিগে জয়ের দেখা পায়নি দলটি। চলতি মৌসুমেও লিগে জয়হীন থাকার পাশাপাশি অবনমন অঞ্চলে পড়ে আছে তারা।
অন্যদিকে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের অবস্থাও খুব একটা ভালো নয়। ম্যাচের প্রথমার্ধ ও শেষ হওয়ার পর সমর্থকদের দুয়ো শুনতে হয়েছে তাদের। গত ৪০ বছরের মধ্যে লিগে মৌসুমের সবচেয়ে বাজে শুরুর অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে দলটি।
দুই দলের কেউই এই ফলে পুরোপুরি সন্তুষ্ট হতে পারবে না। টটেনহ্যামের জন্য শেষ মুহূর্তের গোল হার এড়ানোর স্বস্তি এনে দিলেও জয়ের খরা কাটেনি। আর এগিয়ে থেকেও জয় হাতছাড়া করায় নতুন করে প্রশ্নের মুখে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের পারফরম্যান্স।

