উয়েফা নেশন্স লিগে ইসরায়েলের বিপক্ষে মাঠে নামার আগেই ম্যাচ বয়কটের হাকডাক উঠেছে আয়ারল্যান্ড দলকে ঘিরে। যদিও শেষ পর্যন্ত সেই ম্যাচ চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দলটি। তবে এমন সিদ্ধান্তে একমত হতে না পারে সরে দাঁড়িয়েছেন একজন। গাজায় ইসরায়েলের সহিংসতার প্রতিবাদে আইরিশদের হয়ে মাঠে নামছেন না গোলরক্ষক গ্যাভিন বাজুনু।
ম্যাচটিতে আয়ারল্যান্ড মাঠে নামবে কি না, এই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করতে খেলোয়াড়রা নিজেদের মধ্যে পাঁচ ঘণ্টা আলোচনা করেছে। পরবর্তীতে ভোটাভুটির মাধ্যমে ম্যাচ খেলার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়। তবে শেষ পর্যন্ত একজন খেলোয়াড় দল থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন।
রোববার হাঙ্গেরির দেবরেসেনে ইসরায়েলের বিপক্ষে আয়ারল্যান্ডের ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। তবে শনিবার দলের সংবাদ সম্মেলন ও অনুশীলন পাঁচ ঘণ্টার বেশি পিছিয়ে যায়। এ সময় খেলোয়াড়রা হোটেলে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করেন।
ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন অব আয়ারল্যান্ডের (এফএআই) প্রধান নির্বাহী ডেভিড কোরেল জানান, একজন খেলোয়াড় কোচকে ম্যাচ খেলা নিয়ে অস্বস্তির কথা জানিয়ে দল ছাড়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। এরপর বাকি খেলোয়াড়দের মধ্যে ভোটাভুটি হয়। ‘উল্লেখযোগ্য সংখ্যাগরিষ্ঠ’ ম্যাচ চালিয়ে যাওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন বলে জানান কোরেল।
খবরে বলা হয়েছে, গোলরক্ষক গ্যাভিন বাজুনু শুক্রবার রাতে সতীর্থদের জানিয়েছিলেন যে তিনি খেলতে চান না। তবে সংবাদ সম্মেলনে তার নাম নিশ্চিত করা হয়নি। কোচ হেইমির হলগ্রিমসন জানান, একজন খেলোয়াড় দল ছেড়ে যাচ্ছেন।
ম্যাচটি খেললেও আইরিশ খেলোয়াড়রা মাঠে নামবেন কালো আর্মব্যান্ড পরে এবং ম্যাচ শুরুর আগের অনুষ্ঠানের কিছু অংশে অংশ নেবেন না তারা। দুই ম্যাচের পারিশ্রমিকের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ দাতব্য কাজে দেওয়ার কথাও জানিয়েছে এফএআই।
আয়ারল্যান্ডে ফিলিস্তিনের প্রতি ব্যাপক সমর্থন রয়েছে। ইসরায়েলের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কটের দাবিতে দেশটিতে বিক্ষোভও হয়েছে। ১৬০ জনের বেশি আইরিশ ক্রীড়াবিদ এফএআইকে ম্যাচ দুটি নিয়ে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন।
এর আগে মিডফিল্ডার জেসন নাইটও বলেছিলেন, তার মনে হয় ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হওয়া উচিত নয়। অন্যদিকে এফএআইয়ের যুক্তি, ম্যাচ বয়কট করলে উয়েফার কঠোর শাস্তির মুখে পড়তে পারে আয়ারল্যান্ড।

