ডেঙ্গু ও মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে এবার মাঠপর্যায়ে সরাসরি পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিধন কার্যক্রমে অংশ নিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের (নাসিক) প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান। শনিবার নগরীর বিভিন্ন এলাকায় তিনি নিজেই কাঁধে ফগার মেশিন নিয়ে মশক নিধন কার্যক্রমে অংশ নেন এবং শিক্ষার্থী ও নগরবাসীকে পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে সচেতন করেন।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ‘নিজ আঙিনা পরিষ্কার রাখি, ডেঙ্গুমুক্ত নারায়ণগঞ্জ গড়ি’ স্লোগানে নগরীর বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এ কর্মসূচি পরিচালনা করা হয়।
কর্মসূচির অংশ হিসেবে খানপুর বার একাডেমি স্কুল, সিদ্ধিরগঞ্জের জালকুড়ি উচ্চ বিদ্যালয়, সফুরা খাতুন পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এবং লক্ষ্মী নারায়ণ কটন মিলস উচ্চ বিদ্যালয়ে পরিচ্ছন্নতা ও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম চালানো হয়। এ সময় বিদ্যালয়ের খেলার মাঠ, আঙিনা ও আশপাশের স্থান পরিষ্কার করা হয়। পাশাপাশি ফগার ও স্প্রে মেশিনের মাধ্যমে মশক নিধনের ওষুধ ছিটানো হয়।
এ সময় নাসিক প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু সিটি কর্পোরেশনের কার্যক্রম যথেষ্ট নয়; নগরবাসীকেও নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্ব নিতে হবে। এ লক্ষ্যে প্রতি শনিবার স্কুল-কলেজ, সরকারি অফিস, পাড়া-মহল্লা ও বিভিন্ন সংগঠনের উদ্যোগে এক ঘণ্টা করে পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন এলাকায় এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে কোনো রোগীর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। তবে বেশ কিছু মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। সিটি কর্পোরেশনের ৪, ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডে বর্তমানে কোনো ডেঙ্গু রোগী নেই বলেও জানান তিনি।
সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, ডেঙ্গুর বিস্তার ঠেকাতে এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করতে হবে। বাথরুমের কমোডে দীর্ঘদিন পানি জমে থাকা, ডাবের খোসা, বিভিন্ন পাত্র কিংবা বৃষ্টির পানি জমে থাকলে সেখানে এডিস মশা বংশবিস্তার করতে পারে। তাই বাড়ির আঙিনা, ছাদ ও আশপাশের জায়গা নিয়মিত পরিষ্কার রাখার পাশাপাশি যেখানে-সেখানে ময়লা-আবর্জনা না ফেলার আহ্বান জানান তিনি।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, শুধু নিজেদের বাড়ি পরিষ্কার রাখলেই হবে না, পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীদেরও পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে সচেতন করতে হবে। সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে নারায়ণগঞ্জকে ডেঙ্গুর ঝুঁকি থেকে সুরক্ষিত রাখা সম্ভব বলে তিনি উল্লেখ করেন।
কর্মসূচিতে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নূর কুতুব উল আলম, স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মোস্তাফা, মহানগর শ্রমিকদলের আহ্বায়ক এস এম আসলাম, সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা, ওয়ার্ডের সচিব ও সুপারভাইজার এবং সিটি কর্পোরেশনের মশক নিধন কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

