সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আমাদের অপরিসীম নিয়ামত দান করেছেন এবং মানুষকে তা শিখিয়েছেন যা সে জানত না। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, সর্বজ্ঞ ও সর্বশক্তিমান আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আমাদের সরদার ও আমাদের নবী মুহাম্মদ (সা.) তাঁর বান্দা ও রাসুল যিনি সর্বজ্ঞ সর্বদ্রষ্টা মহান সত্তার বার্তা বাহক। মহান আল্লাহ তাঁর ওপর, তাঁর পরিজন ও সাহাবিদের ওপর অগণিত রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন, যাদের তিনি নিজের দ্বীন প্রতিষ্ঠা এবং তাঁর নবীর জ্ঞান প্রচারের জন্য মনোনীত করেছেন।
নিশ্চয়ই দ্বীনি ইলম অর্জন করা প্রত্যেক মুসলমানের ওপর ফরজ তার ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন ও দৈনন্দিন জীবনে যতটুকু জ্ঞানের প্রয়োজন হয় সেই পরিমাণে।
এই দ্বীনি জ্ঞানার্জনের সঠিক উপায় হলো নির্ভরযোগ্য কিতাব অধ্যয়ন করা ও বিজ্ঞ আলেমদের ক্লাসে বসা, ওয়াজ-নসিহত শোনা, তাদের কাছে জিজ্ঞাসা করা; কেবল অসংলগ্নভাবে পর্যবেক্ষণ করা নয়। আর কাউকে শিক্ষক হিসেবে গ্রহণ করার আগে বা কারো ওয়াজ-নসিহত শোনার আগে তার দ্বীনি অবস্থা ও ইলমি অবস্থান সম্পর্কে ভালোভাবে খোঁজখবর নেওয়া।
ইমাম মুহাম্মদ ইবনে সিরিন (রহ.) বলেছেন, ‘নিশ্চয়ই এই ইলমই হলো আপনাদের দ্বীন। সুতরাং আপনারা কার কাছ থেকে আপনাদের দ্বীন গ্রহণ করছেন, তা ভালোভাবে দেখে নিন।’ (মুকাদ্দামায়ে সহিহ মুসলিম)
তাই হালাল ও হারামের বিষয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে কেবল যোগ্য ও প্রকৃত আলেমদের কাছে ফতোয়া জিজ্ঞাসা করুন, মূর্খদের কাছে নয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) নির্দেশ করেছেন, ‘আল্লাহ তাআলা মানুষের কাছ থেকে একবারে ইলম ছিনিয়ে নেবেন না; বরং আলেমদের তুলে নেওয়ার মাধ্যমে ইলম উঠিয়ে নেবেন। অবশেষে যখন কোনো আলেম অবশিষ্ট থাকবে না, তখন মানুষ মূর্খদের নিজেদের নেতা বানিয়ে নেবে। তাদের প্রশ্ন করা হলে তারা ইলম ছাড়াই ফতোয়া দেবে, ফলে তারা নিজেরাও পথভ্রষ্ট হবে এবং অন্যদেরও পথভ্রষ্ট করবে।’ (সুনানে ইবনে মাজা)
যাদের আমল বা দ্বীনি অনুশীলন নেই, তাদের কাছ থেকে ইলম গ্রহণ করবেন না। কারণ কোনো বান্দা যখন আমল ছেড়ে পাপে লিপ্ত হয়, তখন তার অন্তরে একটি কালো দাগ পড়ে যায়। ফলে জ্ঞান ও তথ্যাদি আর তার অন্তরে প্রকৃত প্রভাব ফেলতে পারে না। ইলম হলো নুর বা আলো, আর আলো কখনোই অন্ধকারের মধ্যে সঠিকভাবে প্রতিফলিত হয় না।
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) বলেছেন, ‘অসংখ্য বর্ণনা বা তথ্যের সমাহারকেই আসল ইলম বলা হয় না; বরং ইলম হলো এমন এক নুর, যা আল্লাহ তাআলা মানুষের অন্তরে ঢেলে দেন।’
আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তোমাদের নিকট আল্লাহর পক্ষ থেকে আলো ও স্পষ্ট কিতাব এসেছে। এর মাধ্যমে আল্লাহ তাদেরকে শান্তির পথ দেখান, যারা তাঁর সন্তুষ্টির অনুসরণ করে এবং তাঁর অনুমতিতে তিনি তাদেরকে অন্ধকার থেকে আলোর দিকে বের করেন। আর তাদেরকে সরল পথের দিকে হেদায়াত দেন।’ (সুরা মায়েদা: ১৫-১৬)
আল্লাহ তাআলা জ্ঞানীদের জিজ্ঞাসা করার নির্দেশ দিয়ে বলেন, ‘তোমরা জ্ঞানীদের জিজ্ঞাসা করো, যদি তোমরা না জানো।’ (সুরা নাহল: ৪৩)
কোরআনে আরও বলা হয়েছে, ‘যাদের অন্তরে রয়েছে সত্যবিমুখ প্রবণতা, তারা ফেতনার উদ্দেশ্যে এবং ভুল ব্যাখ্যার অনুসন্ধানে মুতাশাবিহ আয়াতগুলোর পেছনে লেগে থাকে। অথচ আল্লাহ ছাড়া কেউ এর ব্যাখ্যা জানে না। আর যারা জ্ঞানে পরিপক্ক, তারা বলে, আমরা এগুলোর প্রতি ইমান আনলাম, সবগুলো আমাদের রবের পক্ষ থেকে। আর বিবেক সম্পন্নরাই উপদেশ গ্রহণ করে।।’ (সুরা আলে ইমরান: ৭)
আল্লাহ তাআলা আমাদের ও আপনাদেরকে কোরআনের বরকত দান করুন এবং এর আয়াত ও প্রজ্ঞাপূর্ণ উপদেশ দ্বারা উপকৃত হওয়ার তাওফিক দিন। আমি আমার এই বক্তব্য শেষ করছি এবং আমার জন্য, আপনাদের জন্য ও সকল মুসলিমের জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি। আপনারা তাঁর কাছে ক্ষমা চান; নিশ্চয়ই তিনি পরম ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।

