গুমের অভিযোগের ক্ষেত্রে নিরপেক্ষ তদন্ত, প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রের কার্যকর ভূমিকা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবদুল্লাহ আল আমিন।
গুমের শিকার ব্যক্তিদের স্মরণে আন্তর্জাতিক দিবস উপলক্ষে মানবাধিকার সংগঠন অধিকার আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। শনিবার (২৯ আগস্ট) রাজধানীর বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
আবদুল্লাহ আল আমিন বলেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর মানুষের প্রত্যাশা ছিল দেশ আর গুম, নির্যাতন ও রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের পুরোনো চর্চায় ফিরে যাবে না। কিন্তু সেই প্রত্যাশার পরও বাগেরহাটের মোংলায় মিরাজ শেখকে গুমের অভিযোগের ঘটনায় তাঁর পরিবারের সদস্যদের ২৭ দিন কারাগারে থাকতে হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
তিনি বলেন, মিরাজ শেখ নিখোঁজ হওয়ার পর তাঁর পরিবার থানায় গিয়ে অভিযোগ করে। কিন্তু স্বজনের সন্ধান ও বিচার চাওয়ার পর যদি পরিবারের সদস্যদেরই কারাগারে যেতে হয়, তাহলে ভুক্তভোগীরা রাষ্ট্রের কাছে কীভাবে ন্যায়বিচার চাইবেন—এ প্রশ্ন থেকেই যায়।
গুমের অভিযোগের ক্ষেত্রে ভুক্তভোগী বা পরিবারের ওপর অযৌক্তিক প্রমাণের দায় চাপানো উচিত নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রতিটি অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা বের করা এবং দায়ীদের বিচারের আওতায় আনা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।
তিনি আরও বলেন, কোনো সরকারি উদ্যোগে পরিবর্তনের প্রয়োজন হলে তা সংশোধন ও শক্তিশালী করা যেতে পারে। তবে রাজনৈতিক বিবেচনায় আগের কোনো পদক্ষেপ বাতিল করে এমন পরিস্থিতি তৈরি করা উচিত নয়, যাতে ভুক্তভোগীরা আরও ঝুঁকির মুখে পড়েন।
আবদুল্লাহ আল আমিন বলেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকতেই পারে। কিন্তু মানবাধিকার, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, পুলিশ সংস্কার এবং গুমের মতো মৌলিক বিষয়ে দেশকে পেছনের দিকে হাঁটা উচিত নয়। জনগণের অধিকার ও নিরাপত্তাকে সামনে রেখেই রাষ্ট্রের প্রতিটি পদক্ষেপ মূল্যায়ন করতে হবে।
তিনি গুমের অভিযোগের দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত, প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন, দায়ীদের বিচারের আওতায় আনা এবং নাগরিকের মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
আলোচনা সভায় বিভিন্ন সময়ে গুমের শিকার ব্যক্তি ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি বিএনপির সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, মানবাধিকারকর্মী, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

