নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে অবৈধ গ্যাস সংযোগের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে তিনটি চুনা কারখানার সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেছে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে কারখানাগুলোর অবৈধ স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। এ সময় অবৈধ গ্যাস সংযোগে ব্যবহৃত পাইপ, রাইজার ও বার্নার জব্দ করা হয়েছে।
রোববার (২৩ আগস্ট) সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত উপজেলার সোনাখালী, প্রতাবেরচর ও পিরোজপুর এলাকায় পৃথকভাবে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মিজ সুহা তাবিল।
তিতাস গ্যাসের সোনারগাঁ মেঘনাঘাট অঞ্চলের ব্যবস্থাপক সুরজিত কুমার সাহা জানান, একটি অসাধু চক্র বিভিন্ন প্রভাবশালী ব্যক্তির পরিচয় ও রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে অবৈধভাবে গ্যাস সংযোগ নিয়ে এসব চুনা কারখানা পরিচালনা করে আসছিল। দীর্ঘদিন ধরে কারখানাগুলোতে অবৈধভাবে বিপুল পরিমাণ গ্যাস ব্যবহার করা হচ্ছিল।
তিনি বলেন, তিনটি চুনা কারখানায় প্রতি ঘণ্টায় আনুমানিক ১২ হাজার ঘনফুট গ্যাস অবৈধভাবে ব্যবহার করা হতো। এতে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। অবৈধ গ্যাস সংযোগ উচ্ছেদের নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এসব কারখানায় অভিযান চালানো হয়।
অভিযানকালে তিতাসের কর্মকর্তারা কারখানাগুলোর অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন। একই সঙ্গে সংযোগে ব্যবহৃত বিভিন্ন ধরনের পাইপ, রাইজার ও বার্নার খুলে জব্দ করা হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে কারখানাগুলোর স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।
তিতাস গ্যাসের কর্মকর্তা সুরজিত কুমার সাহা আরও বলেন, অবৈধ গ্যাস সংযোগের বিরুদ্ধে তিতাসের অভিযান নিয়মিতভাবে চলবে। কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান অনুমোদন ছাড়া গ্যাস ব্যবহার করলে তাদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, অবৈধ সংযোগের মাধ্যমে গ্যাস ব্যবহার বন্ধ করার পাশাপাশি সরকারি রাজস্ব সুরক্ষায় এ ধরনের অভিযান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
অভিযানের সময় তিতাস গ্যাসের উপ-সহকারী প্রকৌশলী তৌফিকুর রহমান ও জহুরুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

