বিদ্যুৎ গ্রাহকদের মতামত ও সম্মতি ছাড়াই প্রিপেইড মিটার স্থাপনের উদ্যোগের প্রতিবাদে নারায়ণগঞ্জে প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভা থেকে জোরপূর্বক প্রিপেইড মিটার স্থাপনের সিদ্ধান্ত স্থগিত রেখে গণশুনানির আয়োজন এবং গ্রাহকদের উদ্বেগের সমাধানের দাবি জানানো হয়।
শুক্রবার (৩১ জুলাই) রাতে নগরীর চাষাঢ়ার বাগে জান্নাত জামে মসজিদের দ্বিতীয় তলায় চাষাঢ়া ও বাগে জান্নাত পঞ্চায়েত পরিষদের যৌথ উদ্যোগে এ সভার আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট মাহাবুবুর রহমান মাসুম।
চাষাঢ়া পঞ্চায়েত পরিষদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নুরুল হুদার সভাপতিত্বে এবং বাগে জান্নাত পঞ্চায়েত পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক শরীফ সুমনের সঞ্চালনায় সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন নারায়ণগঞ্জ নাগরিক অধিকার ফোরামের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মাহবুবুর রহমান ইসমাইল।
সভায় আরও বক্তব্য দেন বীর মুক্তিযোদ্ধা রমজানুল রশিদ, বাগে জান্নাত পঞ্চায়েত পরিষদের সভাপতি ও বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন নারায়ণগঞ্জ মহানগর শাখার সভাপতি মহিউদ্দিন মাহমুদ, দেওভোগ পোশাক প্রস্তুতকারক মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সুজন মাহমুদ, গভীর নলকূপ ব্যবহারকারী মালিক সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন, জামতলা পঞ্চায়েত কমিটির সভাপতি মজিবুর রহমানসহ বিভিন্ন পঞ্চায়েত, মসজিদ কমিটি ও সমাজ উন্নয়ন সংগঠনের নেতারা।
বক্তারা অভিযোগ করেন, ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ডিপিডিসি) গ্রাহকদের সঙ্গে কোনো ধরনের পরামর্শ, গণশুনানি কিংবা জনমত যাচাই ছাড়াই প্রিপেইড মিটার স্থাপনের কার্যক্রম পরিচালনা করছে। তাদের দাবি, প্রিপেইড মিটারে রিচার্জের অর্থ শেষ হয়ে গেলে সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, ফলে অসুস্থ রোগী, শিশু, শিক্ষার্থী ও সাধারণ পরিবারকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়।
এছাড়া রিচার্জের সময় ডিমান্ড চার্জ, মিটার ভাড়া ও ভ্যাটের নামে অর্থ কেটে নেওয়া, সার্ভার জটিলতায় সময়মতো ব্যালেন্স যুক্ত না হওয়া এবং জরুরি কারিগরি সহায়তা না পাওয়ার মতো বিভিন্ন সমস্যার কথাও তুলে ধরেন বক্তারা।
তাদের ভাষ্য, বিদ্যুৎ একটি মৌলিক নাগরিক সেবা। তাই জনগণের মতামত উপেক্ষা করে কোনো নতুন ব্যবস্থা চাপিয়ে দেওয়া সমীচীন নয়। প্রিপেইড মিটার প্রকল্প বাস্তবায়নের আগে গ্রাহকদের অংশগ্রহণে উন্মুক্ত গণশুনানির আয়োজন এবং বিদ্যমান সমস্যাগুলোর কার্যকর সমাধান নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তারা।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অ্যাডভোকেট মাহাবুবুর রহমান মাসুম বলেন, গ্রাহকদের মতামতকে গুরুত্ব না দিয়ে জোরপূর্বক প্রিপেইড মিটার স্থাপন গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। তিনি বলেন, আগে গণশুনানির মাধ্যমে জনগণের উদ্বেগ দূর করতে হবে। গ্রাহকরা সন্তুষ্ট হলে তারা স্বেচ্ছায় প্রিপেইড মিটার গ্রহণ করবেন।
সভায় বক্তারা প্রিপেইড মিটার প্রকল্পের বিভিন্ন দিক এবং বিদ্যুৎ বিভাগের সাম্প্রতিক কার্যক্রম নিয়েও সমালোচনামূলক বক্তব্য তুলে ধরেন। একই সঙ্গে গ্রাহকবান্ধব নীতিমালা প্রণয়ন এবং বিদ্যুৎ সেবায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবি জানান।

