বিপ্লবী কমিউনিস্ট নেত্রী কমরেড হেনা দাস এর ১৭তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে সোমবার (২০ জুলাই) সকাল সাড়ে ৮ টায় মাসদাইর এলাকায় নারায়ণগঞ্জ সিটি মহাশ্মশানে তার স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি ‘সিপিবি’ ও বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল ‘বাসদ’ সহ বিভিন্ন গণসংগঠনের নেতৃবৃন্দ। শ্রদ্ধা নিবেদন পরবর্তী কমরেড হেনা দাসের স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়। কমিউনিস্ট পার্টির জেলা কমিটির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা শিবনাথ চক্রবর্তী’র সভাপতিত্বে স্মরণসভায় আলোচনা করেন ‘সিপিবি’ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা লক্ষী চক্রবর্তী, বীর মুক্তিযোদ্ধা এড. মন্টু ঘোষ, কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সদস্য ও জেলা কমিটির সাবেক সভাপতি হাফিজুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য দুলাল সাহা, সাধারণ সম্পাদক এম এ শাহীন, শহর কমিটির সভাপতি আঃ হাই শরীফ, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল ‘বাসদ’ জেলা কমিটির সদস্য সচিব আবু নাঈম খান বিপ্লব। বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ জেলা কমিটির সদস্য শাহানারা বেগম, বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন, বাংলাদেশ প্রগতি লেখক সংঘ জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক বিমল কান্তি দাস, গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র জেলা কমিটির অর্থ সম্পাদক মৈত্রী ঘোষ, সমাজ অনুশীলন কেন্দ্রের সংগঠক কবি রঘু অভিজিৎ রায়, সমমনা সামাজিক সংগঠনের নেতা জিয়াউল হক বাবু প্রমুখ।
স্মরণসভায় নেতৃবৃন্দ বলেন, গরিব মেহনতি মানুষের মুক্তি সংগ্রামের অগ্রসৈনিক বীর মুক্তিযোদ্ধা কমরেড হেনা দাস আজীবন শোষণমুক্ত সমাজ গড়ার লক্ষ্যে কাজ করে গেছেন। তিনি ১৯২৪ সালে সিলেট শহরের পুরানলেনে জন্মগ্রহণ করেন। মুক্ত মানবের মুক্ত সমাজ তথা সাম্যবাদী সমাজ প্রতিষ্ঠার মহান ব্রত নিয়ে কমরেড হেনা দাস ছাত্র জীবনে ১৪ বছর বয়সে সংগ্রামে অবতীর্ণ হন। ছাত্র আন্দোলন থেকে শুরু করে বৃটিশবিরোধী আন্দোলন, নানকার বিদ্রোহ, ৫২’র ভাষা আন্দোলন, ৬৯’র গণঅভ্যুত্থান, মহান মুক্তিযুদ্ধ, স্বৈরাচার ও সাম্প্রদায়িকতা বিরোধী আন্দোলনে অনন্য ভুমিকা রেখেছেন। এছাড়াও নারী ও শিক্ষা আন্দোলন, চা শ্রমিক আন্দোলন, আদিবাসী এবং সাংস্কৃতিক আন্দোলনে অতুলনীয় ভুমিকা রেখে ছিলেন।
নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, কমরেড হেনা দাস কমিউনিস্ট পার্টি গড়ে তোলার কাজে সর্বদা নিবেদিত ছিলেন। সারাজীবন তিনি শিক্ষা-সংস্কৃতি-রাজনীতি নিয়ে লেখালেখি করেছেন। তাঁর লেখা অনেকগুলো বই প্রকাশিত হয়েছে। তিনি তাঁর জীবন উৎসর্গ করেছিলেন কৃষক-শ্রমিক-মেহনতি মানুষের মুক্তির সংগ্রামে। কমরেড হেনা দাস ২০০৯ সালের ২০ জুলাই ৮৫ বছর বয়সে নারায়ণগঞ্জে প্রয়াত হয়েছেন। মানবমুক্তির মহান সংগ্রামে জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত অবিচল ছিলেন। বঞ্চিত-নিপীড়িত মানুষের মুক্তির সংগ্রামের অগ্রসৈনিক হিসেবে তিনি ছিলেন অবিচল। কমরেড হেনা দাসের মতো বহুমুখী ধারার আন্দোলনের অনন্য নেত্রী এদেশে খুবই কমই জন্মেছেন। তাঁর বিপ্লবী জীবন থেকে শিক্ষা নিয়ে শোষণ-বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার লড়াই বেগবান করার আহবান জানান নেতৃবৃন্দ।

