নারায়ণগঞ্জের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও শক্তিশালী করতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব তুলে ধরেছেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল আমিন। তিনি জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে স্থায়ী নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা, ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন, অটো ও সিএনজিচালিত যানবাহন থেকে চাঁদাবাজি বন্ধ, মাদকবিরোধী যৌথ অভিযান আরও জোরদার করা এবং পরিবেশ দূষণকারী রোলিং মিলগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
রবিবার (১২ জুলাই) জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভায় তিনি এসব দাবি তুলে ধরেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির।
সভায় এমপি আব্দুল্লাহ আল আমিন বলেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভকে ঘিরে বিচ্ছিন্ন অপ্রীতিকর ঘটনার নজির থাকলেও নারায়ণগঞ্জে এখনো এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি। তিনি জানান, স্মৃতিস্তম্ভ পরিদর্শনকালে সেখানে পুলিশের একটি দলকে সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করতে দেখেছেন। তবে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সদস্যদের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো, বিশেষ করে ওয়াশরুমের ব্যবস্থা নেই। তিনি স্মৃতিস্তম্ভ ঘিরে সীমানাপ্রাচীর, প্রবেশদ্বার এবং স্থায়ী নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি বলেন, ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডে নিয়মিত পুলিশ টহল থাকলেও বিভিন্ন ধরনের অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে। বিশেষ করে যেখানে অবৈধভাবে ময়লা ফেলা হয়, সেখানে জনসমাগম কম থাকায় অপরাধপ্রবণ পরিবেশ তৈরি হয়েছে। এসব স্থানে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন, নজরদারি বৃদ্ধি এবং অবৈধভাবে ময়লা ফেলা বন্ধে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
এ সময় তিনি অভিযোগ করেন, চাষাড়া, পঞ্চবটী ও সাইনবোর্ড এলাকায় অটো ও সিএনজিচালিত যানবাহন থেকে আবারও চাঁদাবাজি শুরু হয়েছে। যাত্রী ও চালকদের হয়রানি বন্ধে দ্রুত প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তিনি।
মাদক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে সংসদ সদস্য বলেন, নারায়ণগঞ্জের পাঁচটি সংসদীয় আসনের অন্যতম বড় সমস্যা এখন মাদক। মাদকের বিস্তার নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে কিশোর গ্যাং, ছিনতাই, সংঘর্ষসহ বিভিন্ন অপরাধ আরও বেড়ে যাবে। এ কারণে মাদকবিরোধী যৌথ অভিযান আরও গতিশীল করার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের অভিযোগ ও তথ্য গ্রহণের জন্য একটি হটলাইন চালুরও প্রস্তাব দেন তিনি।
পরিবেশ দূষণের বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, জেলার বিভিন্ন এলাকায় রোলিং মিল থেকে নির্গত ধোঁয়া ও ধুলাবালুর কারণে স্থানীয় বাসিন্দারা অ্যালার্জি, শ্বাসকষ্টসহ নানা স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছেন। অবৈধভাবে গ্যাস ও দূষিত ধোঁয়া নির্গমনকারী রোলিং মিলগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং পরিবেশ অধিদপ্তরকে আরও কার্যকর ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।
এ ছাড়া সরকারের চলমান খাল খনন প্রকল্পের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে এমপি আব্দুল্লাহ আল আমিন বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়নে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে। কোনো ধরনের অনিয়ম, দুর্নীতি বা লুটপাটের সুযোগ যাতে সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।

