বিএনপির নেতৃত্বাধীন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর নারায়ণগঞ্জে দলের ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাদের মূল্যায়নের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে মনে করছেন তৃণমূল নেতাকর্মীরা। ইতোমধ্যে জেলার তিনজন শীর্ষ নেতাকে গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় ও প্রশাসনিক দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় এবার মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আবু আল ইউসুফ খান টিপু কে মূল্যায়নের দাবি জোরালো হয়ে উঠেছে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় থাকা এবং দলীয় কর্মসূচি বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার কারণে তৃণমূল নেতাকর্মীদের কাছে টিপু একজন জনপ্রিয় ও গ্রহণযোগ্য নেতা হিসেবে পরিচিত। মহানগর বিএনপির সাংগঠনিক কার্যক্রমকে গতিশীল রাখতে তার ভূমিকা নেতাকর্মীদের কাছে প্রশংসিত।
বিএনপির চেয়ারপারসন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে নারায়ণগঞ্জে ইতোমধ্যে কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ নেতার মূল্যায়ন হয়েছে। এর মধ্যে গত ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ জারি করা সরকারি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট শাখাওয়াত হোসেন খান-কে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়।
এরপর ১৫ মার্চ ২০২৬ তারিখে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ–কে নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। তিনি ১৬ মার্চ ২০২৬আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
সবশেষে জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুকুল ইসলাম রাজীব-কে নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (এনডিএ)-এর চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন ১১ জুন ২০২৬ রাতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা হয়।
দলীয় নেতাকর্মীদের মতে, শাখাওয়াত হোসেন খান, মামুন মাহমুদ ও মাসুকুল ইসলাম রাজীবের মতোই মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আবু আল ইউসুফ খান টিপুও দীর্ঘদিন ধরে দলের জন্য নিবেদিতভাবে কাজ করে আসছেন। আন্দোলন-সংগ্রামের প্রতিটি ধাপে তিনি সক্রিয় ছিলেন এবং সাংগঠনিকভাবে দলকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।
তৃণমূল নেতাকর্মীরা বলছেন, নারায়ণগঞ্জে বিএনপির সাংগঠনিক ভিত্তি সুসংহত করতে টিপুর অবদান অনস্বীকার্য। তাই দলের পরীক্ষিত ও ত্যাগী নেতাদের মূল্যায়নের যে ধারা শুরু হয়েছে, তার পরবর্তী ধাপে আবু আল ইউসুফ খান টিপুকেও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দিয়ে মূল্যায়ন করা হবে—এমন প্রত্যাশা তাদের।
নেতাকর্মীদের ভাষ্য, “শাখাওয়াত, মামুন ও রাজীবের পর এবার টিপুর পালা। দীর্ঘদিনের ত্যাগ, শ্রম ও সাংগঠনিক দক্ষতার স্বীকৃতি হিসেবে তাকেও মূল্যায়ন করা উচিত।”

