ডেইলি নারায়ণগঞ্জ টুয়েন্টিফোর ডটকমঃ শিল্পনগরী হিসেবে পরিচিত নারায়ণগঞ্জ দিন দিন যেন আতঙ্কের নগরীতে পরিণত হচ্ছে। ছিনতাই, মাদক ব্যবসা, সন্ত্রাস সব মিলিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিরাজ করছে চরম উদ্বেগ ও অনিরাপত্তা। সাম্প্রতিক সময়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর হামলার ঘটনাও পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
শহরের বিভিন্ন এলাকা, দেওভোগ, গলাচিপা, মাসদাইর,ফতুল্লা, সিদ্ধিরগঞ্জ, রূপগঞ্জসহ গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলে প্রতিনিয়ত ঘটছে ছিনতাই ও মাদকের বিস্তার। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর অনেক সড়কই হয়ে উঠছে ঝুঁকিপূর্ণ। স্থানীয়দের অভিযোগ, কয়েকটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশ্যে মাদক বিক্রি ও সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালালেও কার্যকর প্রতিরোধ দেখা যাচ্ছে না।
পরিস্থিতির ভয়াবহতা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, সন্ত্রাসীরা সাবেক পুলিশ কর্মকর্তাকেও ছাড় দিচ্ছে না। সম্প্রতি এক সাবেক পুলিশ কর্মকর্তার বাড়ী লুট করে এবং আটক হওয়া আসমীদের ছিনিয়ে নেওয়াতে আরও আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। এতে সাধারণ মানুষ প্রশ্ন তুলছে যেখানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাই নিরাপদ নন, সেখানে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়?
এরই মধ্যে র্যাব সদস্যদের ওপর মাদক ব্যবসায়ীদের হামলার ঘটনা নতুন করে আলোচনায় এসেছে। এ ঘটনায় র্যাব-১১ কঠোর অবস্থান নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। সংস্থাটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মাদক ও সন্ত্রাস নির্মূলে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করা হবে এবং যেকোনো মূল্যে অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধুমাত্র অভিযান চালিয়ে নয়, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি এবং সামাজিক সচেতনতা তৈরির মাধ্যমে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে। পাশাপাশি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগও জরুরি।
এদিকে সাধারণ মানুষ দ্রুত পরিস্থিতির উন্নতি দেখতে চায়। তাদের দাবি—নিয়মিত টহল জোরদার, মাদক স্পটগুলোতে স্থায়ী অভিযান এবং অপরাধীদের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা হোক।
সব মিলিয়ে প্রশ্ন একটাই—র্যাবের কঠোর অবস্থান ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতায় কি স্বস্তি ফিরবে নারায়ণগঞ্জে? নাকি আতঙ্কই হয়ে থাকবে এই শহরের নতুন পরিচয়—সেটিই এখন দেখার বিষয়।

