ডেইলি নারায়ণগঞ্জ টুয়েন্টিফোর ডটকমঃ নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে একসময় শক্ত ভিত গড়ে তোলা জাতীয় পার্টি এখন কার্যত বিলীন হওয়ার পথে। নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য নাসিম ওসমানের হাত ধরেই এ অঞ্চলে দলটির উত্থান ঘটে। তবে ২০১৪ সালের ৩০ এপ্রিল তার মৃত্যুর পর থেকেই সাংগঠনিক শক্তির ক্রমাগত অবক্ষয় শুরু হয়।
তার উত্তরসূরি হিসেবে সেলিম ওসমান সংসদ সদস্য হলেও দলীয় সংগঠনকে শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে তেমন ভূমিকা রাখেননি এমন অভিযোগ দীর্ঘদিনের। দল ক্ষমতায় থাকলেও নিজস্ব কার্যালয়ের অভাব, কার্যক্রমে অনীহা এবং নেতাকর্মীদের সঙ্গে দূরত্ব সব মিলিয়ে মাঠপর্যায়ে হতাশা বাড়তে থাকে। সেলিম ওসমানের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ থাকলেও মুখে কেউ কিছু বলার সাহস পায়নি বরং অনেকেই নীরব ভূমিকায় ছিলেন।
প্রায়ত নাসিম ওসমানের স্ত্রী পারভিন ওসমান কিছুদিন নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ করার চেষ্টা করলেও বারবার ব্যর্থ হন বলে অভিযোগ রয়েছে। অনেক নেতাকর্মী নাসিম ওসমানের অভাব তার মাধ্যমে পূরণ করতে চাইলেও তা আর হয়ে ওঠেনি।
পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর। এর পর থেকে নারায়ণগঞ্জে জাতীয় পার্টির কার্যক্রম প্রায় স্থবির হয়ে পড়ে। দলটির নেতাকর্মীদের প্রকাশ্যে তেমন দেখা যায় না; এমনকি নাসিম ওসমানের মৃত্যুবার্ষিকীতেও কোনো দৃশ্যমান কর্মসূচি ছিল না।
একসময় দলটির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিকে ব্যঙ্গ করে বলেছিলেন, “শুধু ওসমান লীগ আর ওসমান পার্টি।” পরবর্তীতে একই মন্তব্যের প্রতিধ্বনি শোনা যায় বিদিশা এরশাদ এবং সেলিম ওসমানের কণ্ঠেও।
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর পারভিন ওসমানসহ পরিবারের সকল সদস্য আত্মগোপনে রয়েছেন বলে জানা গেছে।
এদিকে নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও প্রেসিডিয়াম সদস্য লিয়াকত হোসেন খোকা রাজনীতিতে কার্যত নিষ্ক্রিয়। মাঝে মধ্যে দেখা গেলেও নারায়ণগঞ্জে তার দৃশ্যমান কোনো তৎপরতা নেই।
২০২২ সালের ১৮ জুন জি এম কাদেরের উপস্থিতিতে জেলা ও মহানগর কমিটি গঠন করা হলেও বর্তমানে সেই কমিটির অধিকাংশ নেতাই নিষ্ক্রিয় বা আত্মগোপনে রয়েছেন। অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব, নেতৃত্ব সংকট ও পদত্যাগের কারণে সংগঠন কার্যত ভেঙে পড়েছে।
সব মিলিয়ে বর্তমান বাস্তবতায় নারায়ণগঞ্জে জাতীয় পার্টি সাংগঠনিকভাবে দুর্বল ও প্রায় অদৃশ্য। স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে হতাশা বাড়ছে অনেকেই দল ছাড়ছেন বা নতুন রাজনৈতিক জোটে ভিড়ছেন। ফলে দলটির অবস্থান এখন স্পষ্টভাবেই অস্তিত্ব সংকটে।

