ডেইলি নারায়ণগঞ্জ টুয়েন্টিফোর ডটকমঃ ইসলামে প্রাপ্তবয়স্ক নারী ও পুরুষের ওপর রমজানের রোজা ফরজ। পবিত্র কোরআন–এ আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেছেন, ঈমানদারদের ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেমন পূর্ববর্তী উম্মতদের ওপরও ফরজ করা হয়েছিল, যাতে তারা তাকওয়া অর্জন করতে পারে (সুরা বাকারা, আয়াত ১৮৩)। অর্থাৎ মূল বিধান অনুযায়ী গর্ভবতী নারীর জন্যও রোজা রাখা ফরজের অন্তর্ভুক্ত।
তবে শরিয়তে কিছু বিশেষ পরিস্থিতিতে ছাড়ের বিধান রয়েছে। গর্ভবতী নারী যদি আশঙ্কা করেন যে রোজা রাখলে তার নিজের শারীরিক ক্ষতি হতে পারে অথবা গর্ভের সন্তানের কোনো ঝুঁকি তৈরি হতে পারে, তাহলে তিনি রোজা না রাখার অনুমতি পাবেন। এ ক্ষেত্রে পরবর্তীতে সুস্থ ও সক্ষম হলে সেই রোজাগুলো কাজা করে নিতে হবে।
পবিত্র কোরআনের আরেক আয়াতে বলা হয়েছে, কেউ অসুস্থ থাকলে বা সফরে থাকলে অন্য সময়ে সমসংখ্যক দিন পূরণ করবে (সুরা বাকারা, আয়াত ১৮৪)। এই আয়াত থেকেই অসুস্থতা বা বিশেষ অবস্থার ক্ষেত্রে রোজা পিছিয়ে দেওয়ার বিধানটি স্পষ্ট হয়।
হাদিসেও এ বিষয়ে নির্দেশনা পাওয়া যায়। সাহাবি আনাস ইবনে মালেক (রা.) বর্ণনা করেন, এক সফরের সময় তিনি রোজা ছিলেন। তখন রাসুলুল্লাহ মুহাম্মদ (সা.) তাকে জানান যে আল্লাহ তাআলা মুসাফিরের জন্য রোজা ও নামাজে কিছুটা ছাড় দিয়েছেন এবং গর্ভবতী ও দুগ্ধদানকারী নারীদের রোজার ক্ষেত্রেও অবকাশ রেখেছেন (তিরমিজি, হাদিস ৭১৫)।
এ হাদিসের আলোকে সাহাবি আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) মত দিয়েছেন, গর্ভবতী ও দুগ্ধদানকারী নারী রমজানে রোজা না রাখতে পারেন, তবে পরে কাজা আদায় করবেন। তাঁর মতে, শুধু মিসকিনকে খাদ্য প্রদান করলেই যথেষ্ট নয়; কাজা আদায় করাই মূল দায়িত্ব (মুসান্নাফে আবদুর রাজ্জাক, হাদিস ৭৫৬৪)।

