ডেইলি নারায়ণগঞ্জ টুয়েন্টিফোর ডটকমঃ ডায়াবেটিস থাকুক বা না থাকুক—রাতের খাবার রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কারণ রাতে শরীরের নড়াচড়া কমে যায়, বিপাকক্রিয়া ধীর হয়ে পড়ে। এই সময় ভুল খাবার খেলে রক্তে সুগার হঠাৎ বেড়ে যেতে পারে। চিকিৎসকদের মতে, রাতের খাবারই অনেকটা ঠিক করে দেয় পরের দিনের ফাস্টিং সুগার রিপোর্ট।
ডায়াবেটোলজিস্টদের পরামর্শ অনুযায়ী, কিছু খাবার আছে যেগুলো রাতে খাওয়া হলে ব্লাড সুগার দ্রুত স্পাইক করে। ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য সেগুলো কার্যত ‘বিষ’-এর মতো কাজ করে। চলুন জেনে নেওয়া যাক—
রাতে যে খাবারগুলো এড়িয়ে চলবেন ডায়াবেটিস থাকলে
১. সাদা ভাত ও ময়দা দিয়ে তৈরি খাবার
সাদা ভাত, নান, পাস্তা, ময়দার রুটি—এই সব খাবার দ্রুত গ্লুকোজে পরিণত হয়। রাতে শরীর এই অতিরিক্ত শর্করা খরচ করতে পারে না, ফলে রক্তে সুগার বেড়ে যায়। ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য এগুলো সবচেয়ে ক্ষতিকর।
২. আলু ও ভাজা খাবার
আলু, ফ্রেঞ্চ ফ্রাই, চপ, পকোড়া—এগুলোতে থাকে উচ্চমাত্রার কার্বোহাইড্রেট ও তেল। এর ফলে ইনসুলিন ঠিকভাবে কাজ করতে পারে না, সুগার নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।
৩. চিনি দেওয়া সস ও গ্রেভি
টমেটো কেচাপ, চিলি সস, রেডিমেড গ্রেভি বা ড্রেসিংয়ে লুকিয়ে থাকে প্রচুর চিনি। অল্প পরিমাণ হলেও রাতে খেলে ব্লাড সুগার দ্রুত বেড়ে যেতে পারে।
৪. সাদা পাউরুটি ও বেকারি খাবার
পাউরুটি, বান, কেক, বিস্কুট—এগুলিতে ফাইবার প্রায় নেই। ফলে খুব দ্রুত রক্তে চিনিতে রূপান্তরিত হয় এবং হঠাৎ সুগার স্পাইক ঘটায়।
৫. মিষ্টি ও ডেজার্ট
রাতের খাবারের পর মিষ্টি, আইসক্রিম বা মিষ্টি দই খাওয়ার অভ্যাস অনেকেরই রয়েছে। কিন্তু এই অভ্যাস ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য ভয়ংকর। এর প্রভাব পড়ে পরের দিনের ফাস্টিং সুগারেও।
৬. প্যাকেটজাত ও ক্যানড খাবার
ক্যানড স্যুপ, ইনস্ট্যান্ট নুডলস, রেডি-টু-ইট খাবারে থাকে অতিরিক্ত লবণ, চিনি ও প্রিজারভেটিভ। এগুলো দীর্ঘমেয়াদে ইনসুলিনের কার্যকারিতা কমিয়ে দেয়।
৭. মিষ্টি গোটা শস্য (প্যাকেটজাত)
অনেকে ভাবেন গোটা শস্য মানেই স্বাস্থ্যকর। কিন্তু বেশিরভাগ প্যাকেটজাত শস্যে চিনি অনেক বেশি থাকে। রাতে খেলে এগুলোও রক্তে শর্করা দ্রুত বাড়িয়ে দেয়।
তাহলে ডায়াবেটিসে রাতে কী খাবেন?
বিশেষজ্ঞদের মতে, রাতের খাবার হওয়া উচিত হালকা, কম কার্বোহাইড্রেট ও সহজপাচ্য। যেমন—
ডাল
শাক-সবজি
স্যালাড
টক দই
পনির
ডিম
গ্রিল বা সেদ্ধ মাছ
এই ধরনের খাবার রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে এবং হজমেও সমস্যা হয় না।
ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে ওষুধের পাশাপাশি রাতের খাবারের দিকে বিশেষ নজর দেওয়া অত্যন্ত জরুরি। সামান্য সচেতনতা আর সঠিক খাদ্যাভ্যাসই আপনাকে বড় বিপদ থেকে দূরে রাখতে পারে।

