ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে আন্দোলনরত পোশাকশ্রমিকদের উসকানির শিকার না হয়ে আলোচনার মাধ্যমে দাবি আদায়ের আহ্বান জানিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ-২ (আড়াইহাজার) আসনের সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম আজাদ। তিনি বলেছেন, শ্রমিকদের কল্যাণের পাশাপাশি শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও ব্যবসায়ীদের স্বার্থ বিবেচনায় রেখেই সরকার কাজ করছে। আলোচনার মাধ্যমে শ্রমিকদের জন্য গ্রহণযোগ্য সমাধান বেরিয়ে আসবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সোমবার (২ নভেম্বর) দুপুরে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের ফতুল্লার শিবু মার্কেট এলাকায় সড়ক অবরোধ করে রাখা শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
নজরুল ইসলাম আজাদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী শ্রমিকদের প্রতি যথেষ্ট আন্তরিক। শ্রমিকেরা যেন ভালো থাকেন, একই সঙ্গে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোও যেন সচল থাকে, সে বিষয়টি বিবেচনায় রেখেই সরকার কাজ করছে। শ্রমিকদের মজুরি নিয়ে আলোচনা ও সমাধানের জন্য মজুরি কমিশন গঠনের বিষয়টিও উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, আলোচনার টেবিলে শ্রমিকদের প্রতিনিধিরাও থাকবেন এবং সবার মতামতের ভিত্তিতে গ্রহণযোগ্য সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হবে।
আন্দোলনে উসকানির অভিযোগ তুলে সংসদ সদস্য বলেন, শ্রমিকদের একটি অংশকে কেউ কেউ পেছন থেকে উসকানি দেওয়ার চেষ্টা করছে। এ ধরনের উসকানিতে পা না দিয়ে নিজেদের বিবেক-বুদ্ধি দিয়ে পরিস্থিতি বিবেচনা করার আহ্বান জানান তিনি। শ্রমিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, এই সরকার গঠনে শ্রমিকদেরও ভূমিকা রয়েছে। তাই সরকারের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করা সম্ভব। শ্রমিকদের পাশে থাকার আশ্বাসও দেন তিনি।
উসকানিদাতাদের শনাক্ত করার বিষয়ে নজরুল ইসলাম আজাদ বলেন, বিভিন্ন স্থানে স্থাপিত সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা করে কারা পেছন থেকে উসকানি দিচ্ছে, তা চিহ্নিত করার সুযোগ রয়েছে। যারা শ্রমিকদের আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা করছে, তাদের ব্যাপারে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
এর আগে সোমবার দুপুর ১২টার দিকে ফতুল্লার শিবু মার্কেট, কাঠেরপুল ও আশপাশের কয়েকটি পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা মিছিল নিয়ে শিবু মার্কেট এলাকায় জড়ো হন। পরে তাঁরা ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের উভয় পাশে অবস্থান নিয়ে সড়ক অবরোধ করেন। তাঁদের প্রধান দাবি, ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ করতে হবে। পাশাপাশি শ্রমিকদের ওপর হামলা বন্ধের দাবিও জানান আন্দোলনকারীরা।
আন্দোলনে মেট্রো নিটিং, পলমল গার্মেন্টস, আবির ফ্যাশন, আজাদ-রিফাত ডাইং, লিবার্টি ও মিডল্যান্ডসহ ফতুল্লার বিভিন্ন কারখানার শ্রমিকেরা অংশ নেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। অবরোধের ফলে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের উভয় পাশে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়। কয়েক কিলোমিটারজুড়ে যানবাহন আটকে পড়ায় কর্মজীবী মানুষ, যাত্রী, পথচারী ও শিক্ষার্থীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়।
এদিকে শ্রমিকদের আন্দোলন ঘিরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়। জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও অপারেশন) তারেক আল মেহেদী জানান, শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হচ্ছে।
পরে সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম আজাদ, জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশ্বাস দেওয়ার পর প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা পর শ্রমিকেরা অবরোধ প্রত্যাহার করেন বলে জানা গেছে। এতে লিংক রোডে যান চলাচল স্বাভাবিক হওয়ার পথ তৈরি হয়। তবে শ্রমিকদের ৩০ হাজার টাকা ন্যূনতম মজুরির দাবি এবং তার বাস্তবায়ন নিয়ে পরবর্তী আলোচনার দিকেই এখন নজর সংশ্লিষ্টদের।

