শনিবার রাতে লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে এক ইতিহাসই গড়ে ফেলেছে পাকিস্তান। ভেঙে দিয়েছে ২৪ বছর আগে ভারতের গড়া এক বিশ্বরেকর্ড। ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে তারা শ্রীলঙ্কার ৩২৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করে জিতেছে। পাকিস্তান পরে ব্যাট করে তুলেছে ৩৩১ রান, কোনো ওয়ানডে টুর্নামেন্টের ফাইনালে সফল রান তাড়ায় সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড এখন এটিই।
২০০২ সালে রেকর্ডটি গড়েছিল ভারত। সে বছর লর্ডসে ন্যাটওয়েস্ট সিরিজের ফাইনালে তারা ইংল্যান্ডের ৩২৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করে জিতেছিল। সেদিন যুবরাজ সিং ও মোহাম্মদ কাইফ কঠিন অবস্থা থেকে দলকে উদ্ধার করেন। ভারত জেতে দুই উইকেটে। ভারতীয় ক্রিকেটের স্মরণীয় প্রত্যাবর্তনগুলোর একটি এটি।
এবার ৩২৬ রান তাড়া করে জেতার ফলে পাকিস্তান সেই রেকর্ডের সমান হয়েছে। ২৪ বছর পর দুই দল একসঙ্গে রেকর্ডের পাতায় জায়গা পেল। তবে একটা জায়গায় পাকিস্তান ছাপিয়েই গেছে ভারতকে। পরে ব্যাট করে সেদিন ভারত তুলেছিল ঠিক ৩২৬ রান। পাকিস্তান গেল রাতে যখন ৩২৫ রানে দাঁড়িয়ে, তখন শাহিন শাহ আফ্রিদি হাঁকিয়েছেন ছক্কা, সেটাই দলটাকে নিয়ে গেছে চূড়ায়। ওয়ানডে টুর্নামেন্টের ফাইনালে সফল রান তাড়ায় এখন সর্বোচ্চ রান করার রেকর্ডটা চলে গেছে পাকিস্তানের দখলে।
শুরুতে পাকিস্তান, দুইয়ে এখন ভারতের রেকর্ড। তবে তৃতীয় স্থানেও আছে এই দুই দলের নাম। এমনকি পরের দুই স্থানেও আছে এই দুই দল। ১৯৯৮ সালে ঢাকায় পাকিস্তানের বিপক্ষে ৩১৫ রান তাড়া করে জিতেছিল ভারত, এটি আছে তালিকার তিনে। চতুর্থ স্থানে আছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ, ১৯৯৩ সালে শারজায় পাকিস্তানের বিপক্ষে ২৮৫ রান তাড়া করে জিতেছিল দলটি। পঞ্চম স্থানে আছে নিউজিল্যান্ড, ২০০৫ সালে হারারেতে ভারতের বিপক্ষে ২৭৭ রান তাড়া করে জিতেছিল তারা।
গতকালকের এই ফাইনালে আগে ব্যাট করে শ্রীলঙ্কা আট উইকেটে ৩২৫ রান তোলে। ক্যারিয়ারের প্রথম ওয়ানডে সেঞ্চুরি করেন কামিন্দু মেন্ডিস। তিনি ১২৮ বলে ১৩১ রান করেন। পাভন রত্নায়েকে করেন ৭৭।
জবাবে পাকিস্তান শুরুতেই চাপে পড়ে। ১৪ রানে দুই উইকেট পড়ে যায়, বাবর আজম রান না করেই আউট। তখন ফখর জামান ৯৯ বলে ১২৭ রানের ইনিংস খেলেন। সাদ বেগের সঙ্গে তৃতীয় উইকেটে তিনি যোগ করেন ১৪৯ রান। শেষ দিকে আরাফাত মিনহাস ৩১ বলে ৬১ রান করেন। হাসান নাওয়াজের সঙ্গে তার জুটিতে আসে ৯৪ রান। শেষ পর্যন্ত দুই রান দরকার থাকতে ছক্কা মেরে ম্যাচ শেষ করেন অধিনায়ক শাহীন শাহ আফ্রিদি। পাকিস্তান তিন উইকেটে জেতে। জয় আসে নয় বল বাকি থাকতে।
এই জয় পাকিস্তানের জন্য আরও বিশেষ। ২০০৮ সালে বাংলাদেশে কিটপ্লাই কাপের পর তারা আর কোনো ওয়ানডে ত্রিদেশীয় সিরিজ জেতেনি। এবার শুরুর ধস সামলে এবং শেষ ওভারগুলোতে মাথা ঠান্ডা রেখে তারা সেই অপেক্ষার অবসান ঘটাল।

