দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রাম, মামলা-হামলা ও রাজনৈতিক প্রতিকূলতার মধ্যে সংগঠনের পাশে থাকা নেতাকর্মীদের যথাযথ মূল্যায়ন হচ্ছে কি না এ প্রশ্ন ঘিরে নতুন করে আলোচনায় এসেছে নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবদলের রাজনীতি। সামনে নতুন কমিটি গঠনের সম্ভাবনা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা চললেও তৃণমূলের প্রত্যাশা, নেতৃত্ব নির্বাচনে ব্যক্তিগত যোগাযোগ কিংবা কর্মীসমাগমের চেয়ে আন্দোলনে ভূমিকা, সাংগঠনিক দক্ষতা, পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি ও কর্মীদের কাছে গ্রহণযোগ্যতাকে গুরুত্ব দিতে হবে।
জেলা যুবদলের বর্তমান নেতৃত্বে রয়েছেন আহ্বায়ক সাদেকুর রহমান সাদেক, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক খাইরুল ইসলাম সজীব ও সদস্যসচিব মশিউর রহমান রনি। দীর্ঘ সময় ধরে আহ্বায়ক কমিটির মাধ্যমে সংগঠনের কার্যক্রম চলায় নতুন নেতৃত্ব, কমিটি পুনর্গঠন ও তৃণমূলের প্রতিনিধিত্ব নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে।
নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবদলের সাংগঠনিক কাঠামো নিয়ে অসন্তোষের অন্যতম আলোচিত বিষয় দীর্ঘদিন ধরে সম্মেলন ও নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের প্রক্রিয়া দৃশ্যমান না হওয়া। ২০২২ সালের ১৬ মার্চ গোলাম ফারুক খোকনকে আহ্বায়ক এবং মশিউর রহমান রনিকে সদস্যসচিব করে তিন সদস্যের কমিটি ঘোষণা করা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে ২০২৩ সালের ২৯ আগস্ট সাদেকুর রহমান সাদেককে আহ্বায়ক, খাইরুল ইসলাম সজীবকে জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক এবং মশিউর রহমান রনিকে সদস্যসচিব করে নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়। পরে কমিটিটি ৫১ সদস্যে সম্প্রসারিত হয়।
কিন্তু আহ্বায়ক কমিটি থেকে নিয়মিত সম্মেলনভিত্তিক নেতৃত্ব নির্বাচনের প্রক্রিয়া কতটা এগিয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
রাজনীতিতে দুঃসময়ে দলের পাশে থাকা নেতাকর্মীদের অবদান গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু নেতৃত্ব নির্বাচনে কার অবদান কতটা, কে কত দিন মাঠে ছিলেন, কার বিরুদ্ধে কী ধরনের অভিযোগ রয়েছে এবং কে সাংগঠনিকভাবে কতটা দক্ষ এসব বিবেচনার স্বচ্ছ পদ্ধতি না থাকলে প্রশ্ন তৈরি হওয়া স্বাভাবিক।
নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবদলের ক্ষেত্রেও নতুন কমিটি ঘিরে মূল প্রশ্ন হলো, নেতৃত্ব নির্বাচনে আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা রাখা নেতাদের যথাযথ মূল্যায়ন করা হবে কি না। একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে ব্যক্তিগত যোগাযোগ, বড় কর্মসূচিতে লোকসমাগম ঘটানোর সক্ষমতা কিংবা প্রভাবশালী মহলের সমর্থনই নেতৃত্ব পাওয়ার প্রধান মানদণ্ড হয়ে উঠবে কি না, তা নিয়েও আলোচনা রয়েছে।
জেলা যুবদলের সদস্যসচিব মশিউর রহমান রনি বলেছেন, আন্দোলন-সংগ্রামে কার কী ভূমিকা ছিল, তা কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের জানা রয়েছে। কাকে কোন দায়িত্ব দিলে সংগঠনের গতিশীলতা বাড়বে, সেই সিদ্ধান্ত কেন্দ্রীয় নেতারাই নেবেন বলে তাঁর বক্তব্য।
নেতাদের এসব বক্তব্যে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সিদ্ধান্তের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে তৃণমূলের প্রত্যাশা পূরণে সেই সিদ্ধান্তের ভিত্তি কী হবে, কীভাবে যোগ্যতা যাচাই করা হবে এবং দীর্ঘদিনের কর্মীদের মতামত কতটা বিবেচনায় নেওয়া হবে এসব প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর গুরুত্বপূর্ণ।
রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর সংগঠনের কার্যক্রম বিস্তৃত করা, নতুন কর্মী যুক্ত করা এবং পুরোনো নেতাকর্মীদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো যেকোনো রাজনৈতিক সংগঠনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু এ ক্ষেত্রে দুঃসময়ে দলের সঙ্গে থাকা কর্মীদের অভিজ্ঞতা ও অবদান উপেক্ষিত হলে সাংগঠনিক ঐক্য দুর্বল হওয়ার ঝুঁকি থাকে।
নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবদলের নতুন কমিটি কবে হবে, সম্মেলনের মাধ্যমে নেতৃত্ব নির্বাচনের উদ্যোগ নেওয়া হবে কি না এবং নেতৃত্ব বাছাইয়ে কোন মানদণ্ড অনুসরণ করা হবে এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো স্পষ্ট নয়।
তৃণমূলের প্রত্যাশা, নতুন নেতৃত্ব নির্ধারণের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অবদান, সাংগঠনিক দক্ষতা, কর্মীদের কাছে গ্রহণযোগ্যতা ও ব্যক্তিগত ভাবমূর্তিকে গুরুত্ব দেওয়া হবে। একই সঙ্গে অভিযোগ থাকলে তা যাচাই করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে এবং যোগ্য নতুন নেতৃত্বের জন্য সুযোগ তৈরি করা হবে।
সবশেষে প্রশ্ন থেকেই যায় নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবদলের নেতৃত্ব কি ত্যাগ, যোগ্যতা ও সাংগঠনিক অবদানের ভিত্তিতে নির্ধারিত হবে, নাকি কমিটি গঠন ঘিরে ব্যক্তিগত প্রভাব ও যোগাযোগের অভিযোগই আলোচনার কেন্দ্রে থাকবে? এই প্রশ্নের উত্তর নির্ভর করছে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সিদ্ধান্ত, সাংগঠনিক স্বচ্ছতা এবং তৃণমূলের প্রত্যাশাকে কতটা গুরুত্ব দেওয়া হয় তার ওপর।

