নারায়ণগঞ্জে অটোরিকশাচালক মো. জামাল হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত মনিরুল ইসলাম রঞ্জু ওরফে ‘গালপোড়া রঞ্জু’কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)।
শনিবার (৩ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে ফতুল্লার দাপা ইদ্রাকপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন এসআরবি-১১-এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মুহিত কবীর।
গ্রেপ্তার রঞ্জু (৪৪) নারায়ণগঞ্জ নগরীর আল্লামা ইকবাল রোড এলাকার কবির হোসেনের ছেলে। দীর্ঘদিন ধরে পলাতক থাকা এই আসামিকে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
গত ২৪ আগস্ট নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক নাজমুন্নাহার সুমি অটোরিকশাচালক জামাল হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায়ে মনিরুল ইসলাম রঞ্জু ওরফে ‘গালপোড়া রঞ্জু’কে মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। একই মামলায় মো. আকাশ আহম্মেদকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। অপর দুই আসামি আরাফাত খান ওরফে শান্ত এবং মো. খোকন মিয়াকে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় খালাস দেন আদালত।
মামলার নথি ও আদালতসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, ২০১১ সালের ১৩ জুলাই নিখোঁজ হন চাঁদপুরের মতলবের বাসিন্দা মো. জামাল (৪০)। তিনি পেশায় সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক ছিলেন এবং পরিবার নিয়ে ফতুল্লার পাগলা নয়ামাটি এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন।
নিখোঁজের পাঁচ দিন পর ১৮ জুলাই নারায়ণগঞ্জ শহরের আমলাপাড়া এলাকার একটি বাড়ির পরিত্যক্ত টয়লেটের পাশ থেকে জামালের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে এ ঘটনায় তার স্ত্রী সখিনা বেগম বাদী হয়ে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন।
তদন্ত শেষে রঞ্জুসহ চারজনের বিরুদ্ধে ২০১১ সালের ১৩ অক্টোবর আদালতে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। দীর্ঘ বিচারিক কার্যক্রম শেষে প্রায় ১৫ বছর পর গত আগস্টে মামলাটির রায় ঘোষণা করা হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের বরাতে বিভিন্ন প্রতিবেদনে রঞ্জুকে নারায়ণগঞ্জের আলোচিত অপরাধী আজমেরী ওসমানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে শহরের বিভিন্ন হত্যা, লাশ গুম, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগও বিভিন্ন সময়ে উঠে এসেছে। তবে এসব অভিযোগের সবগুলোতে তার দায় আদালতে প্রমাণিত হয়েছে—এমন দাবি করা হচ্ছে না।
এসআরবি-১১-এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মুহিত কবীর জানান, আদালতের রায়ের পর রঞ্জুর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অবস্থান শনাক্ত করে শনিবার অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তারের পর মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি রঞ্জুকে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানান তিনি।

